বিনোদন জগতের অভিজ্ঞ চরিত্র অভিনেতা ও প্রশিক্ষক জন কোর্কেস ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যু নিউ ইয়র্কের স্টেলা অ্যাডলার একাডেমি অফ অ্যাক্টিং থেকে জানানো হয়েছে, যেখানে তিনি ২০০৮ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষকতা করতেন। মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
কোর্কেসের অভিনয় জীবন ১৯৬০-এর শেষের দিকে শুরু হয়। তিনি জুলস ফেইফারের অফ‑ব্রডওয়ে নাটক ‘লিটল মার্ডারস’‑এর অডিশনে রিডার হিসেবে কাজ করছিলেন, তখনই পরিচালক অ্যালান আরকিন তাকে মার্সিয়া রডের চরিত্রের ভাই হিসেবে নির্বাচিত করেন। এই ভূমিকায় তিনি মঞ্চ ও পর্দায় উভয়ই প্রশংসা অর্জন করেন।
১৯৭১ সালে ফক্স স্টুডিওর চলচ্চিত্র সংস্করণে কোর্কেস একই চরিত্রে ফিরে আসেন, যেখানে আরকিন পুনরায় পরিচালনা করেন এবং এলিয়ট গল্ড ফটোগ্রাফার উইলার্ডের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই কাজটি তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের ভিত্তি স্থাপন করে।
কোর্কেসের সবচেয়ে স্মরণীয় ভূমিকা হল মাইক নিকলসের ‘ক্যাচ‑২২’ (১৯৭০) ছবিতে তরুণ টারেট গনার স্নোডেনের চরিত্র। যদিও স্ক্রিন সময় কম ছিল, তার মৃত্যুর দৃশ্য ছবির নায়ক ক্যাপ্টেন জন ইয়োসারিয়ানের মানসিক কষ্টকে গভীরভাবে প্রকাশ করে।
১৯৭৩ সালে নিকলসের ‘দ্য ডে অফ দ্য ডলফিন’ ছবিতে কোর্কেস গোপন এজেন্টের ভূমিকায় উপস্থিত হন, যা তার বহুমুখী অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করে। পরের বছর, বিলি ওয়াইল্ডারের ‘দ্য ফ্রন্ট পেজ’ (১৯৭৪) ছবিতে তিনি একজন সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তার ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
শিক্ষক হিসেবে কোর্কেসের অবদানও সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। স্টেলা অ্যাডলার একাডেমি থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও থিয়েটারের বহু বছরের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন এবং প্রত্যেককে তার বর্তমান স্তরে পৌঁছাতে সাহায্য করতেন। তার শিক্ষার প্রতি উত্সাহ এবং আন্তরিকতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
কোর্কেস নিজে এক ভিডিওতে উল্লেখ করেন, অ্যালান আরকিন, জুলস ফেইফার, মাইক নিকলস এবং অন্যান্য শিল্পী তার ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ে তাকে সুযোগ দিয়েছিলেন এবং তার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার জন্য অমূল্য এবং তিনি কখনোই তা ভুলে যান না।
তার দীর্ঘায়ু কর্মজীবনে কোর্কেস বহু নাট্য, টেলিভিশন সিরিজ ও চলচ্চিত্রে ছোট ছোট কিন্তু স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যদিও তিনি প্রধান নায়ক না হলেও, তার চরিত্রগুলো প্রায়ই গল্পের মূল মোড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই ধরনের চরিত্র অভিনেতাদের শিল্পে অবদানকে সমৃদ্ধ করে।
কোর্কেসের মৃত্যুর সংবাদ শিল্প জগতে শোকের ছায়া ফেলেছে। বহু সহকর্মী ও শিক্ষার্থী তার স্মৃতি ও শিক্ষাকে সম্মান জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তার কাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে, অনেকেই তার অভিনয় শৈলী ও শিক্ষাদানের পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্টেলা অ্যাডলার একাডেমি কোর্কেসের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তার শিক্ষাদানের সময়কালকে “শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস” হিসেবে উল্লেখ করেছে। শিক্ষার্থীরা তার ক্লাসে শিখে গিয়েছিল কীভাবে শিল্পের বিভিন্ন দিককে একত্রিত করে বাস্তবিক পারফরম্যান্সে রূপান্তর করা যায়।
কোর্কেসের জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি এখনও সক্রিয়ভাবে কর্মশালা ও ক্লাস পরিচালনা করতেন, যেখানে তিনি তরুণ অভিনেতাদের জন্য বাস্তবিক নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করতেন। তার শিক্ষাদানের পদ্ধতি ছিল সরল ও সরাসরি, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করত।
যারা তার কাজের প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য কোর্কেসের চলচ্চিত্র ও নাটকীয় কাজগুলো পুনরায় দেখা একটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা হতে পারে। তার অভিনয় শৈলী ও শিক্ষাদানের নীতি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাই, তার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো—‘ক্যাচ‑২২’, ‘দ্য ডে অফ দ্য ডলফিন’, ‘দ্য ফ্রন্ট পেজ’ এবং ‘লিটল মার্ডারস’—দেখা এবং তার শিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানার মাধ্যমে তার উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানো যায়।



