28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যওজন কমাতে ইচ্ছাশক্তি নয়, জেনেটিক ও পরিবেশগত কারণের জটিলতা

ওজন কমাতে ইচ্ছাশক্তি নয়, জেনেটিক ও পরিবেশগত কারণের জটিলতা

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ জনের মধ্যে ৮ জন বিশ্বাস করেন যে অতিরিক্ত ওজন সম্পূর্ণভাবে জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে রোধ করা যায়। এই ফলাফলটি মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট‑এ প্রকাশিত হয়।

তবে বহু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণকে শুধুমাত্র স্ব-নিয়ন্ত্রণের বিষয় হিসেবে দেখা সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি। দুই দশক ধরে অতিরিক্ত ওজনের রোগীদের সঙ্গে কাজ করা একজন ডায়েটিশিয়ান উল্লেখ করেন, অনেক রোগী উচ্চ প্রেরণা ও জ্ঞানসম্পন্ন হলেও ওজন কমাতে সমস্যার মুখোমুখি হন।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে “ইচ্ছাশক্তি” ও “স্ব-নিয়ন্ত্রণ” শব্দগুলো যথাযথ নয়, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে কম খাবার ও বেশি ব্যায়াম করতে বলার পরেও ওজনের সমস্যার সমাধান হয় না। এই মতামতকে সমর্থন করে ওজন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মেডিক্যাল ডিরেক্টর জানান, অতিরিক্ত ওজনের কারণগুলো বহুমুখী এবং সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত ওজনের পেছনে জেনেটিক, হরমোনাল, মেটাবলিক এবং পরিবেশগত উপাদানসহ বিভিন্ন কারণ কাজ করে। যদিও কিছু কারণ এখনো সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায়নি, তবু স্পষ্ট যে সব মানুষের জন্য সমান শর্তে ওজন কমানো সম্ভব নয়।

এই জটিলতা মোকাবিলায় সরকার নতুন নিয়ম প্রয়োগ করেছে। আজ থেকে টেলিভিশনে রাত ৯টার আগে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রচার সীমিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, বিজ্ঞাপন নিষেধাজ্ঞা একা সমস্যার সমাধান করতে পারে না। যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের এক চতুর্থাংশের বেশি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলছে।

একজন এন্ডোক্রিনোলজিস্টের মতে, ওজন বৃদ্ধিতে জেনেটিক উপাদানের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। নির্দিষ্ট জিনগুলো মস্তিষ্কের ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী পথকে প্রভাবিত করে, ফলে খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে বা কমে। এই জিনগুলো সকলের জন্য প্রযোজ্য, তাই ব্যক্তিগত পার্থক্যকে উপেক্ষা করা যায় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, জেনেটিক ফ্যাক্টর ছাড়াও মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, সামাজিক পরিবেশ এবং খাবারের সহজলভ্যতা ওজনের উপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই একক সমাধান হিসেবে ক্যালোরি সীমাবদ্ধতা বা ব্যায়াম বাড়ানো যথেষ্ট নয়।

বহু দেশের স্বাস্থ্য নীতি এখন এই বহুমুখী কারণগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত প্রোগ্রাম চালু করছে। উদাহরণস্বরূপ, স্কুলে পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহ, শহুরে এলাকায় হাঁটা-দৌড়ের সুবিধা বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমর্থন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

অতিরিক্ত ওজনের রোগীদের জন্য ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। ডায়েট, শারীরিক কার্যক্রম, আচরণগত থেরাপি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ওষুধ বা সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ একসাথে ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতি রোগীর মোট স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক।

সারসংক্ষেপে, ওজন কমাতে শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তি নয়, জেনেটিক প্রবণতা, পরিবেশ এবং জীবনধারার সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারী বিজ্ঞাপন নিষেধাজ্ঞা একটি ধাপ, তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান জন্য সমগ্র সমাজের সচেতনতা ও সমর্থন দরকার।

আপনার পরিবারে বা নিজের মধ্যে যদি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকে, তবে পেশাদার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করা উচিৎ। অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments