27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাভারতে বিমান বাজারের দ্রুত বৃদ্ধি ও স্বদেশি যাত্রীবাহী জেটের সম্ভাবনা

ভারতে বিমান বাজারের দ্রুত বৃদ্ধি ও স্বদেশি যাত্রীবাহী জেটের সম্ভাবনা

ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল বিমান বাজার হিসেবে স্বীকৃত। দেশীয় দুই প্রধান ক্যারিয়ার – IndiGo এবং Air India – মোট বাজারের ৯০ শতাংশেরও বেশি শেয়ার ধারণ করে এবং আগামী দশকে প্রায় ১,৫০০টি নতুন জেট ক্রয়ের পরিকল্পনা করেছে, যা যাত্রী চাহিদার তীব্র বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।

এই বিস্তৃত পরিকল্পনা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের Boeing এবং ইউরোপের Airbus থেকে সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, যাদের সম্মিলিতভাবে বিশ্বব্যাপী ৮৬ শতাংশ বিমান উৎপাদনের দায়িত্ব রয়েছে। ২০২৪ সালে উভয় নির্মাতার উৎপাদন লাইন অতিরিক্ত অর্ডার ও সরবরাহের ব্যাকলগের কারণে ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, ফলে ভারতের অর্ডারগুলোর ডেলিভারিতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

বাহ্যিক সরবরাহের উপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বদেশে যাত্রীবাহী জেট উৎপাদনের প্রশ্ন আবার তীব্রতা পেয়েছে। অক্টোবর মাসে দিল্লি ও মস্কোতে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে SJ‑100 মডেলটি ভারতের কারখানায় উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়। এই উদ্যোগটি দেশীয় বিমান শিল্পের পুনর্জাগরণে নতুন আশা জাগিয়েছে।

SJ‑100 একটি দ্বি-ইঞ্জিনের টার্বোপ্রপ জেট, যা সর্বোচ্চ ১০৩ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম এবং রাশিয়ার কয়েকটি এয়ারলাইন ইতিমধ্যে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের United Aircraft Corporation (UAC) এই মডেলের নির্মাতা, এবং দিল্লি সরকার এটিকে স্বল্প দূরত্বের রুটে ব্যবহারের জন্য “গেম চেঞ্জার” বলে উল্লেখ করেছে। তবে প্রকল্পের খরচ ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সন্দেহ রয়ে গেছে, কারণ রাশিয়ার অংশীদারকে ভারতীয় বাজারে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

UAC ২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রায় ২০০টি SJ‑100 সরবরাহ করেছে, তবে ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ চালানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মূল সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, ফলে UAC প্রায় ৪০টি সিস্টেম পরিবর্তন করে ২০২৩ সালে “ইম্পোর্ট‑সাবস্টিটিউটেড” সংস্করণ চালু করে। ইউরোপীয় বিমান নিরাপত্তা সংস্থা এই মডেলের সার্টিফিকেশন প্রত্যাহার করে, যার ফলে SJ‑100 এবং অন্যান্য রাশিয়ান বিমান ইউরোপীয় আকাশে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে স্বদেশে যাত্রীবাহী বিমান তৈরির লক্ষ্য রাখছে, তবে বাস্তবায়নে সীমিত সাফল্য অর্জন করেছে। ১৯৫৯ সালে সরকার জাতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (NAL) প্রতিষ্ঠা করে ছোট ও মাঝারি আকারের বিমান উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করে। তবু এখন পর্যন্ত কোনো বৃহৎ পরিসরের বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী জেট সফলভাবে বাজারে না এনে দিতে পেরেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, দেশীয় উৎপাদন উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নিয়মাবলীর সাথে সামঞ্জস্যের ওপর। যদি রাশিয়ার সাথে যৌথ উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা স্বল্পমেয়াদে ভারতীয় এয়ারলাইনগুলোর জন্য বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের পরিবর্তন প্রকল্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, স্বদেশি জেট উৎপাদন সফল হলে তা দেশের বাণিজ্যিক বিমান শিল্পকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে স্বতন্ত্র করে তুলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, বর্তমান উচ্চ ব্যাকলগ এবং রাশিয়ার সঙ্গে জটিল ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব বিবেচনা করে, স্বদেশি প্রকল্পের সময়সূচি ও আর্থিক দায়িত্বে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে, ভারতীয় বিমান বাজারের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহের অস্থিরতা স্বদেশি যাত্রীবাহী জেটের উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। রাশিয়া-ভারত যৌথ উদ্যোগ সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নের আগে প্রযুক্তিগত, আর্থিক এবং নিয়ন্ত্রক বাধাগুলো সমাধান করা অপরিহার্য। ভবিষ্যতে স্বদেশি উৎপাদন সফল হলে দেশের এয়ারলাইনগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে স্বতন্ত্রতা ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করতে পারে, তবে বর্তমান অনিশ্চয়তা প্রকল্পের ঝুঁকি ও সময়সীমা বাড়িয়ে তুলছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments