ব্রিটেনের হোম অফিসের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দের ক্ষমতা এখন আইনগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই ব্যবস্থা সোমবার থেকে কেন্টের ম্যানস্টন অভিবাসী প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের মধ্যে কার্যকর হবে, যেখানে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সরকার দাবি করে, এই পদক্ষেপটি ছোট নৌকা দিয়ে যুক্তরাজ্যে অতিক্রমকারী মানব পাচার গ্যাংগুলোর ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, অভিবাসীদের জ্যাকেট বা কোট খুলে ফোন অনুসন্ধান করার অনুমতি থাকবে, পাশাপাশি মুখে লুকিয়ে থাকা সিম কার্ডও পরীক্ষা করা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো গ্রেফতার না করেও ডিভাইস থেকে ডেটা বের করা সম্ভব হবে, যা ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির মতে, পাচার নেটওয়ার্কের তদন্ত দ্রুততর করতে পারে।
বর্ডার সিকিউরিটি মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস উল্লেখ করেন, “আমরা সীমান্তে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা মানে এই প্রাণঘাতী ব্যবসার পেছনের মানুষ পাচার নেটওয়ার্ককে থামানো।” তিনি বলেন, নতুন কঠোর আইন ও দণ্ডের মাধ্যমে এই গ্যাংগুলোকে দ্রুত ধ্বংস করা এবং তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল কেটে ফেলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিল্প লেবার পার্টির সমালোচনা করেন যে কংগ্রেস কেবল “কসমেটিক পরিবর্তন”ই করছে এবং চ্যানেল পারাপারের জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। তিনি যুক্তি দেন, ইউরোপীয় মানবাধিকার চুক্তি (ECHR) ত্যাগের ইচ্ছা কংগ্রেসের, যা লেবার পার্টি সংস্কার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিল্প বলেন, ২০২৫ সালে ৪১,০০০ এর বেশি মানুষ যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পরিকল্পনা থাকায় সরকারকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।
শরণার্থী কাউন্সিল নতুন ক্ষমতার ব্যবহারকে অনুপাতে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানায়। তারা উল্লেখ করে, ফোনগুলো দুর্বল অবস্থায় থাকা মানুষের জন্য পরিবার ও সহায়তার সঙ্গে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, তাই জব্দের প্রক্রিয়া মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সযত্নে পরিচালনা করা দরকার।
আইনের নতুন ধারা অনুযায়ী, নৌকা ইঞ্জিন সংরক্ষণ বা সরবরাহে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে। এছাড়া, ছোট নৌকায় যাত্রা পরিকল্পনা করার জন্য মানচিত্র ডাউনলোড করা বা ডিঙির জন্য উপকরণ সংগ্রহের তথ্য অনুসন্ধানকারী ব্যক্তিরা পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।
চ্যানেল পারাপার নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্টিন হিউইটের মন্তব্যে দেখা যায়, নতুন আইনটি মানব পাচার নেটওয়ার্কের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সীমান্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে, এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কীভাবে মানবিক অধিকার ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভবিষ্যতে, এই নতুন ক্ষমতা ও শাস্তিমূলক ধারা কংগ্রেসের অভিবাসন নীতি ও মানবিক দায়িত্বের মধ্যে কী ধরনের সমন্বয় ঘটাবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। সরকার যদি এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে, তবে মানব পাচার গ্যাংগুলোর ওপর চাপ বাড়বে এবং সীমান্তে অযথা পারাপার কমতে পারে। অন্যদিকে, শরণার্থী অধিকার সংরক্ষণে যথাযথ তদারকি না হলে মানবিক সমালোচনার মুখোমুখি হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নতুন আইনটি অবৈধ অভিবাসীদের মোবাইল ডিভাইস জব্দের অনুমতি দেয়, যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সহায়ক হবে এবং মানব পাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে লড়াইকে ত্বরান্বিত করবে। তবে, এর বাস্তবায়ন ও মানবিক দিকের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।



