বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে, তবে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার এখনও দূরের লক্ষ্য, এ কথা প্রাইভেট থিংক‑ট্যাঙ্ক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (PRI) জানিয়েছে।
PRI অনুসারে, মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে ধারাবাহিক বৃদ্ধি ঘটেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের সূক্ষ্ম অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
তবে, আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কার সীমিত মাত্রায় সম্পন্ন হয়েছে, ফলে নীতি‑নির্ধারকদের কাজের পরিধি সংকুচিত রয়ে গেছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর গতিতে চলছে, নতুন বিনিয়োগের হার স্থবির, বেকারত্বের হার বাড়ছে এবং বাস্তব মজুরি হ্রাসের প্রবণতা স্পষ্ট।
এই বিশ্লেষণটি প্রকাশিত হয়েছে PRI-র মাসিক ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস ইভেন্টে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কী‑নোট সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ইভেন্টে PRI‑এর প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নীতি‑নির্ধারকদের এখন অনিশ্চয়তাকে স্বীকার করে তা মোকাবিলার জন্য নমনীয় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিয়েল‑টাইমে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে, আর সিদ্ধান্তগুলো সময়োপযোগী, বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রস্তুতিমূলক ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।
২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে তিনি জানান, বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরণের অস্থিরতা আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নতুন স্বাভাবিকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ, বাণিজ্যিক বাধা, জলবায়ু পরিবর্তনের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক গতিবিধির পরিবর্তন সবই দেশের স্থিতিস্থাপকতাকে পরীক্ষা করবে।
এছাড়া, দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রতিষ্ঠানগত চাপ এবং শাসনব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলোও ম্যাক্রো‑ইকোনমিক ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব ফেলতে থাকবে।
আশিকুর রহমান অর্থনীতিকে এক বন হিসেবে তুলনা করে বলেন, আমাদেরকে হরিণের মতো সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে, পরিবেশের পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করতে হবে এবং সংকটের সময় কার্যকর পরিকল্পনা হাতে রাখতে হবে।
এই রূপকটি নির্দেশ করে যে, স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রাথমিক সতর্কতা সংকেতগুলোকে উপেক্ষা করা যায় না এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া জরুরি।
সারসংক্ষেপে, নীতি‑নির্ধারকদের এখন পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, ঝুঁকি বিশ্লেষণকে নিয়মিত আপডেট করতে হবে এবং অর্থনৈতিক নীতি গঠনে নমনীয়তা ও প্রস্তুতিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।
এমন কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে, বর্তমান অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি আরও ধীর হয়ে পড়বে।
অতএব, সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করে, বাস্তব‑সময়ের তথ্য ব্যবহার করে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে তার আর্থিক স্বাস্থ্যের পুনর্গঠন করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য শক মোকাবিলার জন্য আরও প্রস্তুত থাকবে।



