27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনমাইকেল বি. জর্ডান বললেন, ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ভিলেন চরিত্রে ডুবে থেরাপি নেওয়া প্রয়োজনীয়...

মাইকেল বি. জর্ডান বললেন, ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ভিলেন চরিত্রে ডুবে থেরাপি নেওয়া প্রয়োজনীয় ছিল

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মাইকেল বি. জর্ডান সম্প্রতি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে মার্ভেল সিনেমা ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’‑এ তিনি যে ভিলেন এরিক কিলমংগার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তা তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সিনেমা শেষ হওয়ার পর তিনি নিজেকে মানসিকভাবে পুনরুদ্ধার করার জন্য থেরাপি সেশনে অংশ নেন।

সিএবিএস সানডে মর্নিং প্রোগ্রামে জর্ডান তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে চরিত্রে পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার পর তার মনের মধ্যে কিছু অবশিষ্ট রইল, যা তাকে স্বস্তি পেতে পেশাদার সাহায্য নিতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, “চলচ্চিত্রের পরে এই অনুভূতি কিছুদিন টিকে রইল, তাই থেরাপি শুরু করলাম, কথা বললাম, আর ধীরে ধীরে শিথিল হতে পারলাম।”

অভিনয়কে তিনি একাকী যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেন; অডিশন, রিহার্সাল এবং চরিত্রের প্রস্তুতি সবই নিজেরই হাতে। এই প্রক্রিয়ায় তিনি শিখেছেন যে কোনো চরিত্রের সঙ্গে অতিরিক্ত সংযুক্তি মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, এবং তা থেকে মুক্তি পাওয়া জরুরি।

কিলমংগার চরিত্রে ডুবে থাকতে জর্ডান স্বীকার করেন, তিনি প্রায়ই একা থাকতেন এবং পরিবারের সঙ্গে কম কথা বলতেন, যাতে চরিত্রের মানসিকতা বজায় রাখা যায়। “এরিকের জীবনে ভালোবাসা কম, বিশ্বাসঘাতকতা বেশি; তার রাগ ও হতাশা তার পারিবারিক ও সামাজিক ব্যর্থতার ফল,” তিনি বলেন।

এ ধরনের গভীর সংযোগের ফলে জর্ডান অনুভব করেন, তার মধ্যে এখনও কিছু অবশিষ্ট রইল, যা তাকে থেরাপিতে নিয়ে যায়। তিনি জোর দেন, “কথা বলা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।” থেরাপি সেশনে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে চরিত্রের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ২০১৮ সালে রায়ান কুগলার পরিচালিত মার্ভেল ফিল্ম, যা তাচালার (চ্যাডউইক বোসম্যান) উত্তরাধিকারী ওকান্ডার রাজ্যকে কেন্দ্র করে। চলচ্চিত্রে এরিক কিলমংগার চরিত্রটি ওকান্ডার অতীতের এক বিরোধী হিসেবে উপস্থাপিত হয়, যার লক্ষ্য দেশের পুরোনো শাসনব্যবস্থা বদলানো।

ফিল্মটি বিশ্বব্যাপী ১.৩৪৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে, এবং তিনটি অস্কার জয় করে। এই বিশাল সাফল্যের পর ২০২২ সালে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার’ নামে সিক্যুয়েল মুক্তি পায়, যেখানে তাচালার উত্তরাধিকারী নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।

জর্ডান এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন, অভিনেতা হিসেবে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভবিষ্যতে এমন কোনো চরিত্রে ডুবে যাওয়ার আগে আগে থেরাপি বা মানসিক সমর্থন নেওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।

তার এই প্রকাশনা শিল্পের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। অনেক অভিনেতা দীর্ঘ সময় ধরে চরিত্রে ডুবে থাকেন, যা কখনো কখনো মানসিক চাপের কারণ হয়। জর্ডানের উদাহরণে দেখা যায়, পেশাগত চাহিদা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের মধ্যে সমতা রক্ষা করা প্রয়োজন।

অভিনয় শিল্পে একাকীত্বের অনুভূতি প্রায়শই দেখা যায়; জর্ডান নিজেও এ কথা স্বীকার করেন, “অডিশন, রিহার্সাল সবই একা করা হয়, তাই নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে হয়।” এই একাকীত্বের সময় তিনি নিজের মানসিক সীমা পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন নেন।

থেরাপি সেশনের মাধ্যমে তিনি শিখেছেন, চরিত্রের আবেগকে নিজের থেকে আলাদা করে রাখতে। তিনি বলেন, “কোনো নকশা নেই, কীভাবে চরিত্র থেকে বেরিয়ে আসা যায় তা শিখতে হয়।” এই প্রক্রিয়া তাকে ভবিষ্যতে আরও সুস্থভাবে অভিনয় করতে সহায়তা করবে।

মাইকেল বি. জর্ডানের এই অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্র শিল্পে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি নিজের গল্প শেয়ার করে অন্য শিল্পী ও দর্শকদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছেন: মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং পেশাগত সাফল্যের ভিত্তি।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments