গোলাপগঞ্জের গুলশানে বুধবার সন্ধ্যায় ব্যবসা‑বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বর্তমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিএনপি শীর্ষ নেতা ও পার্টি চেয়ারপার্সনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের প্রধান শিল্পপতি ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিরা একত্রিত হন। সভা গুলশান চেয়ারপার্সনের অফিসে সন্ধ্যা ৭ টা থেকে প্রায় দুই ঘন্টা চলায়, যেখানে ব্যবসা‑বাণিজ্য, বেকারত্ব, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক নীতিমালা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশদে আলোচনা হয়।
বিএনপি শীর্ষ কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, বৈঠকে ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মুখোমুখি হওয়া বড় চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগের অভাব, কর্মসংস্থানের হ্রাস, পুঁজিবাজারের অস্থিরতা এবং ব্যাংক সুদের উচ্চতা ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে, এ কথায় তিনি দৃঢ় মত প্রকাশ করেন।
তারেক রহমানের মতে, যদি বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশকে উন্নত করা সম্ভব হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কিছু জটিলতা, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং অতিরিক্ত করের বোঝা দূর করা দরকার, যাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আত্মবিশ্বাসী হন। তারেকের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বচ্ছতা আনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও পদক্ষেপগুলো ইতিমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার‑উল আলম চৌধুরী পারভেজও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তারেকের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, স্বচ্ছতা ও ব্যবসা‑সহায়ক নীতি গড়ে তোলার জন্য পার্টি যদি ক্ষমতায় আসে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পারভেজ উল্লেখ করেন, কিছু নীতি বাস্তবায়নে বাধা থাকতে পারে, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে যাতে ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজ ও সুষ্ঠু করা যায়।
বৈঠকে আলোচনার সময় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কর নীতি ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে এই বাধাগুলো সরিয়ে দিয়ে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করা সম্ভব হবে।
বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠকটি পার্টির অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যবসা‑বাণিজ্য সংক্রান্ত পরিকল্পনা জনসমক্ষে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদুপরি, এটি ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা শোনার সুযোগও প্রদান করেছে।
বিএনপি শীর্ষ কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশদ পরিকল্পনা তৈরি করার কথা জানান। তারা উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা, দুর্নীতি মোকাবেলা, কর সংস্কার এবং বিনিয়োগের সুবিধা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কার ইতিমধ্যে রূপরেখা তৈরি হয়েছে। এই নীতিগুলো কার্যকর হলে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বৈঠকের পর, উপস্থিত ব্যবসায়িক নেতারা একমত হন যে স্বচ্ছতা ও ব্যবসা‑সহায়ক নীতি বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা করেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে এই নীতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্বচ্ছতা, দুর্নীতি মোকাবেলা এবং ব্যবসা‑সহায়ক নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কীভাবে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তিত হবে, তা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।



