আফ্রিকান কাপ ২০২৫-এ রাবাতের লাস্ট ১৬ ম্যাচে হোস্ট দল মরক্কো তানজানিয়াকে এক গোলের পার্থক্যে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অগ্রসর হয়েছে। ৬৪তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের চমকপ্রদ শটই ম্যাচের একমাত্র গোল হয়ে দলকে পরবর্তী রাউন্ডে নিশ্চিত করেছে।
মরক্কোর ক্যাপ্টেন আচারফ হাকিমি ডানফ্ল্যাঙ্ক থেকে দিয়াজকে পাস দেন, যিনি ডানবাইরের কাছাকাছি থেকে কোণার দিকে অগ্রসর হয়ে কঠিন কোণ থেকে শট মারেন। শটটি সরাসরি জালে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়, ফলে তানজানিয়ার গোলরক্ষক ইয়াসিন বৌনু কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন না।
ম্যাচে মরক্কো অধিকাংশ সময়ে বলের আধিপত্য বজায় রাখে, তবে তানজানিয়ার কিছু মুহূর্তে বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা দেখা যায়। তানজানিয়ার সিমন মসুয়া ও ফেইসাল সালুম গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়ে ফেলেন, যদিও দলটি গ্রুপ পর্যায়ে কোনো জয় না পেয়ে তৃতীয় স্থান থেকে সেরা চারটি দল হিসেবে লাস্ট ১৬-এ পৌঁছেছে।
মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই দলের আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা কিছুটা সীমিত রইল, তবে তানজানিয়ার অপ্রতুল শুটিংও তাদেরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তানজানিয়ার মসুয়া প্রথমার্ধে খোলা গল পোস্টে হেড করার সুযোগ পান, তবে বলটি চওড়া হয়ে যায়।
ইসমাইল সাইবারি একটি হেডের মাধ্যমে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে তিনি সামান্য অফসাইড অবস্থায় ছিলেন, ফলে গোলটি বাতিল হয়। মরক্কোর আয়ুব এল কাবি দু’বার শুটিং করে গোলের কাছাকাছি পৌঁছান, তবে দু’বারই গোলের ফ্রেমের বাইরে গিয়ে শেষ হয়।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে তানজানিয়ার সলুম দীর্ঘ দূরত্বের শট মারেন, যা গৌনু পারিয়ে যায়, তবে গার্ডার পারফরম্যান্সের কারণে বলটি আবার নিরাপদে ফিরে আসে। তানজানিয়ার আক্রমণাত্মক চাপের পরেও মরক্কো গোলের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়।
ব্রাহিম দিয়াজের গোলের পর তিনি দলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেন, “প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে এবং তানজানিয়া আমাদের toughest opponent ছিল। সবকিছু ঠিকমতো কাজ করেনি, তবে আমরা পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হতে পেরেছি। এখন আমরা কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নেব।” তিনি টুর্নামেন্টের শীর্ষ স্কোরার হিসেবেও উল্লেখযোগ্য।
মরক্কোর পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা অথবা ক্যামেরুন, যাদের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে হবে। উভয় দলই টুর্নামেন্টে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, ফলে মরক্কোর জন্য পরবর্তী ম্যাচটি চ্যালেঞ্জিং হবে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় যে মরক্কো অধিকাংশ সময়ে বলের দখল রাখে, তবে গোলের সংখ্যা সীমিত থাকায় তাদের আক্রমণকে আরও তীক্ষ্ণ করতে হবে। তানজানিয়া যদিও কোনো জয় না পেয়েও গ্রুপ পর্যায়ে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে লাস্ট ১৬-এ পৌঁছেছে, যা তাদের প্রতিযোগিতার প্রতি দৃঢ়তা প্রকাশ করে।
মরক্কোর এই জয় তাদের টুর্নামেন্টে অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যদিও পারফরম্যান্সে এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। দলটি এখন বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য কৌশল নির্ধারণে মনোনিবেশ করবে।
আফ্রিকান কাপের এই পর্যায়ে উভয় দলই তাদের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি প্রকাশ করেছে, তবে শেষ পর্যন্ত মরক্কোর গোলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে। তানজানিয়ার প্রতিরোধমূলক খেলা এবং মরক্কোর আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে তুলেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে যদি দক্ষিণ আফ্রিকা বা ক্যামেরুনের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হয়, তবে তাদের শুটিং দক্ষতা ও রক্ষার শক্তি পরীক্ষা হবে। বর্তমান সময়ে দলটি শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বাড়িয়ে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হওয়া জরুরি।



