28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা ঘোষণা

জুলাই মাসে সারা দেশে ছাত্র-জনতা যে পুলিশ স্টেশনের অধীনে নিহত হয়েছেন, তাদের ওসি, এসপি এবং তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রেকর্ড প্রস্তুত করেছে। আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তালিকাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহতদের তালিকা তৈরি করে, প্রতিটি স্টেশনের ওসি ও এসপি থেকে শুরু করে উচ্চতর কমান্ডিং অফিসারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। রিফাত রশিদ উল্লেখ করেন, এই তালিকা আইসিটি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করার পর কোনো বিলম্ব না করে আইনি কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলন এখনো কোনো টালবাহানা না করে সরাসরি অ্যাকশনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানকে ওসির হুমকির মুখে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি থানার ওসিকে “বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালাই দিয়েছি” বলে হুমকি দিয়েছিলেন, যা তার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদকে তীব্রতর করে। এই ঘটনার পর, শনিবার রাতে শাহবাগে অবরোধের পর আন্দোলন দুই দফা দাবি জানায় এবং পরের দিন মাহদীকে জামিন প্রদান করা হয়।

মাহদীর মুক্তি ও ওসির প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে আন্দোলন এখন তিন দফা দাবি তুলে ধরছে। প্রথম দফা হল, মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির পদত্যাগ। দ্বিতীয় দফা হল, জুলাই ১ থেকে আগস্ট ৮ পর্যন্ত ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অংশগ্রহণে সংঘটিত সকল কর্মকাণ্ডের জন্য দায়িত্বশীলদের উপর আইনি দায়বদ্ধতা আরোপ। তৃতীয় দফা হল, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের দ্রুত জারি, যা রাষ্ট্রপতি, আইন উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সমন্বয়ে নিশ্চিত করা হবে। রিফাত রশিদ উল্লেখ করেন, এই অর্ডিন্যান্সের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কোনো আপডেট পাওয়া মাত্রই জনসাধারণকে জানানো হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দাবি করে, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধীরগতি না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আন্দোলনের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়িত্ব স্পষ্ট এবং তা আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপন করা হবে। যদিও এখনো সরকারী কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আন্দোলন দেশের ছাত্র-জনতা ও মানবাধিকার সংস্থার সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

এই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়, তবে তা দেশের নিরাপত্তা নীতি ও পুলিশ সংস্কারের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, এই ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য নতুন নীতি গড়ে তুলতে বাধ্য করতে পারে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আগামী সপ্তাহে আরও একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে তালিকাটি প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে। আন্দোলন জোর দিয়ে বলেছে, ছাত্র-জনতার সমর্থন ছাড়া কোনো আইনি পদক্ষেপ কার্যকর হবে না এবং তারা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments