প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দুজনই ঢাকায় উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেন। জয়শঙ্করের সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিঠি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে মোদী সরকার বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলকে ভবিষ্যতে নেতৃত্বের দায়িত্বে টেনে নেবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করে, এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। চিঠির মূল বার্তা ছিল “নতুন সূচনা” নিশ্চিত করা, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রচিত।
শোকযাত্রায় উপস্থিত অন্যান্য দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা জয়শঙ্করের সঙ্গে একই দিনে সাক্ষাৎ করেন, তবে caretaker সরকারের এক বছরের বেশি সময়ে ভারতের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ভারতের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করে।
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরের “ইনসাইড আউট” আলোচনায় সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ ভারতের এই পদক্ষেপকে “সৌজন্য, সহমর্মিতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতি একটি রাজনৈতিক বার্তা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের কূটনৈতিক ইঙ্গিত বর্তমান শাসনব্যবস্থার নয়, বরং ভবিষ্যৎ শাসকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।
ফয়েজ আহমেদ আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নে এই ধরনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ কেবল শোকের মুহূর্তে সমবেদনা প্রকাশের সীমা অতিক্রম করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে এই আলোচনাটি রেকর্ড করা হয় এবং রবিবারেরই প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানে জয়শঙ্করের সফর, চিঠির বিষয়বস্তু এবং ভারতের কূটনৈতিক নীতি নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও শোকযাত্রা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তার মৃত্যুর পর, দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল—বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুইটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শোক প্রকাশ করে। তবে ভারতের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এই সময়ে উপস্থিত হয়ে শোকের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইঙ্গিত দেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে চিঠি হস্তান্তরের সময় জয়শঙ্কর ভারত-বাংলাদেশের গভীর অংশীদারিত্বকে “নতুন সূচনা” নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই বার্তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতি ভারতের কৌশলগত আগ্রহের সূচক।
ইতিপূর্বে, caretaker সরকারের সময়কালে ভারতের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপথে একটি ফাঁক তৈরি করেছিল। জয়শঙ্করের এই সফর সেই ফাঁকটি পূরণ করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।
দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশনে রাজনাথ সিংয়ের শোকযাত্রা, জয়শঙ্করের চিঠি হস্তান্তর এবং অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি, সবই একত্রে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক বন্ধনের নতুন মাত্রা উন্মোচন করে। এই ঘটনাগুলি ভবিষ্যতে উভয় দেশের উচ্চস্তরের আলোচনার ভিত্তি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ভারতের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন গতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে যখন ভবিষ্যতে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারী সূত্রে কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সারসংক্ষেপে, খালেদা জিয়ার শোকযাত্রায় ভারতের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং মোদীর চিঠি হস্তান্তর, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন দিক নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কূটনৈতিক ইঙ্গিতের মাধ্যমে উভয় দেশই সমন্বিতভাবে কাজ করার সম্ভাবনা বাড়বে।



