যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনি-দিবসে একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পূর্বভোরে সামরিক অভিযান দ্বারা গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রশাসন পরিচালনা করবে, যতক্ষণ না নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবর্তন সম্পন্ন হয়।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওকে মাদুরোর সহ-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেজের সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। রুবিওর মতে রোড্রিগেজ এখন দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক এবং ভেনেজুয়েলাকে পুনরায় উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে কাজ করতে প্রস্তুত।
ডেলসি রোড্রিগেজের নিজস্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি মাদুরোর গ্রেফতারকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করে দেশকে কোনো উপনিবেশে রূপান্তরিত হতে দেবেন না বলে দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি যুক্তি দেন যে ভেনেজুয়েলা স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখবে এবং কোনো বিদেশি শক্তি তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ের হস্তক্ষেপ করবে না।
ভেনেজুয়েলা সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যনির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণ করে। তাই মাদুরোর গ্রেফতার পর দেশের সর্বোচ্চ আদালত ডেলসি রোড্রিগেজকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা যুক্তিসঙ্গত বলে বিবেচিত হয়।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাদুরোর বৈধতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে জালিয়াতি বলে গণ্য করে মাদুরোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
ভেনেজুয়েলার ইলেকটোরাল কাউন্সিল (CNE) মাদুরোকে পুনর্নির্বাচিত বলে ঘোষণা করলেও, ভোটের বিশদ ফলাফল প্রকাশ না করে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিরোধী দলের সংগ্রহ করা ভোটের তালিকা ও ক্যার্টার সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গনজালেজের জয় নিশ্চিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ গনজালেজকে প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। গনজালেজ, যিনি পূর্বে কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেছেন, জনপ্রিয় বিরোধী নেতা মারিয়া করের সমর্থন পেয়েছেন।
গনজালেজের রাজনৈতিক প্রোফাইল তুলনামূলকভাবে অল্প পরিচিত হলেও, তার পটভূমি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাকে দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম করে তুলেছে।
মাদুরোর গ্রেফতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন দেশটি দুইটি প্রধান প্রশ্নের মুখোমুখি: নতুন প্রশাসন কত দ্রুত ও কত সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি কীভাবে দেশের পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করবে।
ভেনেজুয়েলার সর্বোচ্চ আদালতের রোড্রিগেজকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের পদে স্থাপন করা একটি আইনি ভিত্তি প্রদান করেছে, তবে তার স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা এখনও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে চ্যালেঞ্জের মুখে।
অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘পরিচালনা’ পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের উল্লেখিত ‘নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ’ পরিবর্তন প্রক্রিয়া কী ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে মাদুরোর গ্রেফতার পরবর্তী সময়ে গনজালেজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, রোড্রিগেজের অভ্যন্তরীণ সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের প্রকৃত পরিধির ওপর। এই সব উপাদান একসাথে দেশের শাসনব্যবস্থার পুনর্গঠনকে নির্ধারণ করবে।



