প্রিমিয়ার লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টটনহ্যাম হটস্পার ও সানডারল্যান্ডের মধ্যে ১-১ সমতা রয়ে গিয়েছে। প্রথমার্ধে বেন ডেভিসের গোলের মাধ্যমে টটনহ্যাম এক গোলে এগিয়ে থাকলেও, সানডারল্যান্ডের ব্রায়ান ব্রোবি ৮০তম মিনিটে সমান স্কোর করে দলকে ড্রতে টেনে আনে।
টটনহ্যামের কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্ক ম্যাচের পর দলের আক্রমণাত্মক দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমার্ধে দলটি আধিপত্য বজায় রেখেছিল, তবে দ্বিতীয়ার্ধে ততটা আধিপত্য না থাকলেও কিছু দ্রুত প্রতিপক্ষের আক্রমণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা থেকে আরও বেশি স্কোর করা সম্ভব হতো।
ফ্র্যাঙ্কের মতে, টটনহ্যামের সামনে থাকা সমস্যাগুলোর একটি হল শুটিং ক্ষমতার অভাব। “আমরা দুই গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারিনি,” তিনি বলেন। “প্রিমিয়ার লিগে শুধুমাত্র এক গোলের ওপর নির্ভর করা যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, দলের আক্রমণাত্মক ধারায় তাজা শক্তি যোগ করার প্রয়োজন রয়েছে।
দলটি ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ঘাটতিতে ভুগছে। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার মোহাম্মদ কুদুস প্রথম ২০ মিনিটের আগে পেশী সমস্যার কারণে মাঠ ছেড়ে যায়। কুদুসের অপ্রত্যাশিত প্রস্থান টটনহ্যামের আক্রমণকে আরও দুর্বল করে দেয়, বিশেষ করে যখন দলটি ইতিমধ্যে ব্রেনান জনসনের বিক্রয় নিয়ে সামনের দিকে দৃষ্টিপাত করছে। জনসনকে ক্রিস্টাল প্যালেসে £৩৫ মিলিয়ন দামে বিক্রি করা হয়, যা দলের ফরোয়ার্ড বিকল্পকে সীমিত করে দেয়।
অতিরিক্তভাবে, তরুণ ড্যানিশ ফরোয়ার্ড স্কার্লেট ২১ বছর বয়সে ৮৮তম মিনিটে পরিবর্তে ঢুকে, শেষ মুহূর্তে আক্রমণকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করে। ফ্র্যাঙ্ক উল্লেখ করেন, “আমাদের একটু বেশি তাজা শক্তি দরকার ছিল,” এবং উল্লেখ করেন যে কিছু দল একই সময়ে তিনজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে এবং জয় নিশ্চিত করে, যা টটনহ্যামের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।
টটনহ্যামের আরেকজন মূল খেলোয়াড় শিবিরে নেই; এক্স-আইভি সিমন্স তার তৃতীয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে প্রবেশ করতে পারবে না। সিমন্সের অনুপস্থিতি আক্রমণাত্মক বিকল্পকে আরও সংকুচিত করে। ফ্র্যাঙ্কের মতে, এই সব কারণ একত্রে টটনহ্যামের আক্রমণকে “কাটিং এডজ” থেকে বঞ্চিত করেছে।
সানডারল্যান্ডের দিক থেকে, দলটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের কারণে ছয়জন খেলোয়াড়ের ঘাটতি ভোগ করছে। তবুও, তারা একই শুরুর দল ব্যবহার করে এবং ধারাবাহিকভাবে ড্র বজায় রেখেছে; এই ম্যাচটি তাদের চতুর্থ ধারাবাহিক ড্রের অংশ। সানডারল্যান্ডের এই দৃঢ়তা টটনহ্যামের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, টটনহ্যাম প্রথমার্ধে অধিক শট এবং গোলের সুযোগ তৈরি করলেও, শেষ পর্যন্ত তা স্কোরে রূপান্তরিত করতে পারেনি। সানডারল্যান্ডের সমতা গোলটি ম্যাচের শেষের দিকে এসে দলকে এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে। উভয় দলের সমর্থকই শেষ সিগন্যাল পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় রেখেছিল, তবে শেষের ড্রতে উভয় দিকেরই কিছুটা হতাশা দেখা যায়।
টটনহ্যাম এখন পরবর্তী ম্যাচে তাদের আক্রমণাত্মক বিকল্পগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, বিশেষ করে কুদুসের আঘাত এবং সিমন্সের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর। ফ্র্যাঙ্কের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বিক্রয় ও আঘাতের পরিণতি দলকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে, এবং তাজা শক্তি যোগ করা জরুরি। সানডারল্যান্ডের ক্ষেত্রে, আফ্রিকা কাপের খেলোয়াড়দের ফিরে আসা পর্যন্ত দলটি একই রকম কৌশল বজায় রাখতে পারে, তবে ড্র থেকে জয়ে রূপান্তর করা তাদের জন্য পরবর্তী লক্ষ্য হবে।
এই ম্যাচের ফলাফল টটনহ্যামের লিগ টেবিলে অবস্থানকে প্রভাবিত করবে, এবং ফ্র্যাঙ্কের দলকে শীঘ্রই আক্রমণাত্মক বিকল্পগুলোকে শক্তিশালী করে পরবর্তী ম্যাচে পয়েন্ট বাড়াতে হবে।



