বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) টুইন্টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে ভারতের বাইরে স্থানান্তর করার আবেদন করেছে। এই অনুরোধের ওপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। বিশ্বকাপের সূচনা মাত্র ত্রিশ দিনের মধ্যে, তাই সময়সীমা সংকীর্ণ।
আইসিসি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনি; বর্তমান দিনটি রবিবার হওয়ায় কাজের গতি স্বাভাবিকভাবে ধীর। সূত্র অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বহু দিক বিবেচনা করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে বিশাল লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ।
লজিস্টিক দিক থেকে দেখা যায়, ম্যাচের স্থান পরিবর্তন করলে টিমের ভ্রমণ, বাসস্থান, স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি এবং টিকিটের পুনর্বণ্টনসহ নানা জটিলতা উদ্ভব হবে। এসব বিষয় একত্রে বিশাল সমন্বয় প্রয়োজন, যা সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে।
ভারতের বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট (বিসিসি) সহ-আয়োজক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই স্থানান্তর সংক্রান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন বা বিরোধে তার মতামত বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, আইসিসি এই বিষয়টি মূলত বিসিসি ও বিসিসির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিবেচনা করতে পারে।
বিশ্বকাপের শুরুর তারিখের কাছাকাছি এসে এখনো সময়সীমা কমে যাওয়ায় সূচি পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে। টুর্নামেন্টের সময়সূচি একাধিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই একক দলের পরিবর্তন পুরো টুর্নামেন্টের কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।
বিসিবি গ্রুপ সিতে রয়েছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল এবং ইতালি। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের লিগ ম্যাচগুলো ভারতের তিনটি ভেন্যু—কলকাতা (তিনটি) এবং মুম্বাই (একটি)—এ অনুষ্ঠিত হবে। এই ভেন্যুগুলো পরিবর্তন করলে গ্রুপের অন্যান্য দলগুলোরও সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
যদি লিগ পর্যায়ের পরিবর্তন সম্ভব না হয়, তবে সুপার-৮ পর্যায়ের সম্ভাব্য পরিবর্তনও বিবেচনা করতে হতে পারে। পূর্বের সংস্করণে সুপার-৮ পর্যন্ত পরিবর্তন ঘটেছিল, এবং যদি বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অগ্রসর হয়, তবে পুরো শিডিউল পুনর্গঠন প্রয়োজন হতে পারে।
ম্যাচের স্থানান্তর সরাসরি ভক্তদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে। টিকিট ক্রয়, ভ্রমণ ব্যবস্থা এবং বাসস্থানের বুকিং সবই নির্দিষ্ট ভেন্যুর ওপর নির্ভরশীল, তাই পরিবর্তন হলে ভক্তদের আর্থিক ও সময়সূচি দুটোই ব্যাহত হবে।
আইসিসি আগামী দুই দিনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছে। এই বৈঠকে মূলত বিসিসি ও বিসিসির মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আলোচনা হবে, এবং আইসিসি নিজে হস্তক্ষেপ না করে উভয় পক্ষকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলবে।
সরকারি দিক থেকে কীভাবে অবস্থান নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে জানা যায়, বিসিসি তার সিদ্ধান্তে পরামর্শ নিতে চায়, যা ভবিষ্যতে কোনো দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার সূচক হতে পারে। সবশেষে, আইসিসি সকল বিষয় বিবেচনা করে যথাসময়ে বিসিবিকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করবে।



