22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক অর্ডিন্যান্সে মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থার উদ্বেগ

মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক অর্ডিন্যান্সে মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থার উদ্বেগ

মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক অর্ডিন্যান্স ২০২৫, যা ছোট ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক গঠন করে মূলধন সরবরাহ সহজ করতে চায়, তা নিয়ে দেশের শীর্ষ মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলো সতর্কতা প্রকাশ করেছে। গতকাল এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ব্র্যাক, এএসএসহ এক ডজনেরও বেশি সংস্থা সরকারী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে অর্ডিন্যান্সের বিষয়বস্তু মাইক্রোফাইন্যান্স খাতের বাস্তবতা ও গ্রাহক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অর্ডিন্যান্সের মূল লক্ষ্য হল একটি সামাজিক ব্যবসা কাঠামোর অধীনে মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা। এ জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) একটি খসড়া প্রস্তুত করে এফআইডি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। খসড়া অনুযায়ী নতুন ব্যাংকটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ মূলধনের সমান বা তার বেশি হবে না।

ব্র্যাকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আসিফ সেলেহ এবং এএসএর প্রেসিডেন্ট মো. আরিফুল হক চৌধুরীসহ বহু সংস্থার নেতারা যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলো উন্নয়নমুখী, অলাভজনক এবং প্রধানত নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবা করে, যেখানে ব্যাংকগুলো স্বাভাবিকভাবে লাভের সন্ধানে থাকে। এই মৌলিক পার্থক্যকে অগ্রাহ্য করে অর্ডিন্যান্সের কিছু ধারা ক্ষুদ্র ঋণদাতাদের মূল মিশনকে ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারী উদ্যোগের নীতি দিকটি স্বীকৃত হলেও খসড়া অর্ডিন্যান্সে মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলো কীভাবে মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই। রূপান্তরের প্রক্রিয়া, শর্তাবলী ও নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধানের কাঠামো অনির্দিষ্ট থাকায় বর্তমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

ব্র্যাক ও এএসএ একসাথে গত অর্থবছরে টাকার ১৭৬,৬৫০ কোটি মাইক্রোক্রেডিট বিতরণে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশীদারিত্ব রাখে। এই দুই সংস্থার নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তারা যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে তাদের বাজার শেয়ার ও সামাজিক প্রভাবের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

অস্থায়ী সরকারের নতুন মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক গঠনের উদ্যোগটি ছোট ব্যবসায়িকদের জন্য সহজ শর্তে মূলধন সরবরাহের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলো এই উদ্যোগকে তাদের বিদ্যমান মডেল ও গ্রাহক ভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে খাতের সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য হ্রাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি অর্ডিন্যান্সের ধারাগুলো স্পষ্ট না করা হয়, তবে মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলোর ঋণদানের ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, যা সরাসরি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তহবিল প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে, নতুন ব্যাংকের লভ্যাংশ সীমাবদ্ধতা বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে সীমা আরোপ করতে পারে, ফলে প্রাথমিক মূলধন সংগ্রহে চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, মাইক্রোফাইন্যান্স খাতের স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধির জন্য স্পষ্ট রূপান্তর প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধানের কাঠামো এবং লাভজনকতা ও সামাজিক মিশনের সমন্বয় জরুরি। অর্ডিন্যান্সে এই বিষয়গুলো স্পষ্ট না হলে সংস্থাগুলোকে বিদ্যমান মডেল বজায় রাখতে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় ও ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।

ভবিষ্যৎ প্রবণতা হিসেবে, মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলো সরকারী নীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিজেদের কার্যক্রমকে পুনর্গঠন করতে পারে, তবে তা করতে হলে অর্ডিন্যান্সে রূপান্তরের ধাপ, মূলধন কাঠামো এবং তত্ত্বাবধানের প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হতে হবে। অন্যথায়, খাতের মধ্যে বিভাজন ও তহবিলের অপচয় ঘটতে পারে, যা দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যকে ব্যাহত করবে।

সংক্ষেপে, মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক অর্ডিন্যান্সের নীতি দিকটি ইতিবাচক হলেও, বাস্তবায়নের আগে মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলোর কার্যক্রমিক প্রয়োজন ও সামাজিক মিশনকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। স্পষ্ট রূপান্তর কাঠামো ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা ছাড়া খাতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য হ্রাসের মূল লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments