বাংলাদেশের জীবনবীমা খাত ২০২৪ সালে প্রিমিয়াম আয়তে সামান্য হ্রাস দেখেছে, আর অ-জীবনবীমা বিভাগে মৃদু বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে; এই তথ্য বাংলাদেশ ইনশুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (BIA) তার বার্ষিক সভায় প্রকাশ করেছে।
বছরের শেষে জীবনবীমা সংস্থাগুলো মোট ১১,৩৮৯ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে, যা পূর্ববছরের ১১,৫১০ কোটি টাকার তুলনায় ১.০৫ শতাংশ কম। এই হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
৩৬টি জীবনবীমা সংস্থার মধ্যে মেটলাইফ বাংলাদেশ সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম অর্জনকারী হিসেবে শীর্ষে রয়েছে, যার সংগ্রহ ৩,৩১০ কোটি টাকা। ১৯৫৫ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে আসা এই মার্কিন কোম্পানি স্থানীয় বাজারে দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
BIA-র প্রথম সহ-সভাপতি এবং ডেল্টা লাইফ ইনশুরেন্সের স্পনসর ডিরেক্টর আদিবা রহমানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সরকারের সময়কালে অনেক মাঠ-স্তরের কর্মকর্তা রাজনৈতিকভাবে জড়িয়ে পড়ে দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন, যার ফলে কিছু অঞ্চলে বিক্রয় ও সেবা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, পলিসি ধারকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল পরিচালন পরিবেশ গড়ে তোলা জীবনবীমা খাতের টেকসই বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। দেরি হয়ে দাবি নিষ্পত্তি বাজারের সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করছে এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিকোণ থেকে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (Idra) সম্প্রতি বীমা সংস্থাগুলোকে উচ্চ-ঝুঁকি, মাঝারি-ঝুঁকি এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্সের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য ত্বরিত সংশোধনমূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
জুলাই ২০২৫-এ Idra ৩২টি সংস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ১৫টি জীবনবীমা সংস্থা অন্তর্ভুক্ত। এই তালিকায় থাকা সংস্থাগুলো দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মুখে, ফলে তহবিলের পর্যাপ্ততা, সলভেন্সি রেশিও এবং শাসন কাঠামোর উন্নতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ-জীবনবীমা খাতে ২০২৪ সালে মৃদু বৃদ্ধি দেখা গেছে, যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। এই বৃদ্ধি মূলত সম্পত্তি, যানবাহন এবং স্বাস্থ্য বীমা পণ্যের চাহিদা বাড়ার ফলে ঘটেছে, যা বাজারের বৈচিত্র্য ও স্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৪ সালে জীবনবীমা প্রিমিয়াম হ্রাস পেয়েছে, অ-জীবনবীমা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, মেটলাইফ বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে, এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাস শিল্পের কাঠামোগত সংস্কারের সংকেত দিচ্ছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রক সংস্কার এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি ভবিষ্যতে বীমা বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।



