19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাএভা শ্লসের মৃত্যু: অ্যান ফ্র্যাঙ্ক ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ৯৬‑বছরে লন্ডনে শেষ শ্বাস

এভা শ্লসের মৃত্যু: অ্যান ফ্র্যাঙ্ক ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ৯৬‑বছরে লন্ডনে শেষ শ্বাস

লন্ডন শহরে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৯৬ বছর বয়সে হোলোকাস্ট বেঁচে থাকা এবং অ্যান ফ্র্যাঙ্কের সৎ বোন এভা শ্লসের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি অ্যান ফ্র্যাঙ্ক ট্রাস্ট ইউকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও গৌরবপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন, যার পৃষ্ঠপোষক রাণী ক্যামিলা।

রাজা চার্লস এবং রাণী ক্যামিলা শ্লসের মৃত্যুর সংবাদে শোক প্রকাশ করে, তার জীবনের সংগ্রাম ও মানবিক কাজের প্রশংসা করেছেন। শ্লসের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, যখন তার পরিবার অস্ট্রিয়ার বাড়ি থেকে তাড়া পেয়ে নেদারল্যান্ডসে শরণার্থী হিসেবে বাস করত। নেদারল্যান্ডে তারা অ্যান ফ্র্যাঙ্কের বাড়ির ঠিক বিপরীত মেরওয়েডপ্লেইনে থাকত।

নাজি শাসনের দমনমূলক নীতি অনুসরণে শ্লসের পরিবারকে গোপনে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। দুই বছর গোপনীয়তা বজায় রাখার পর নাজি বাহিনীর নজরে এসে তারা গ্রেফতার হয় এবং অশোয়িৎস শিবিরে পাঠানো হয়। শ্লস অশোয়িৎসে বেঁচে থাকা একমাত্র নারী ছিলেন; তার বাবা ও ভাই শিবিরে মারা যান, আর মা ও বোনের জীবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জানুয়ারি ১৯৪৫-এ সোভিয়েত সেনাবাহিনীর আগমনে শ্লসের পরিবার মুক্তি পায়। মুক্তির পর তারা আবার আমস্টারডামে ফিরে আসে, যেখানে শ্লসের মা এলফ্রিডে (ফ্রিটজি) অ্যান ফ্র্যাঙ্কের পিতা অটো ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এভাবে শ্লস অ্যান ফ্র্যাঙ্কের সৎ বোনের মর্যাদা পায়।

পরবর্তী চার দশক শ্লসের জীবন হোলোকাস্টের স্মৃতি সংরক্ষণ ও শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিবেদিত ছিল। অ্যান ফ্র্যাঙ্ক ট্রাস্ট ইউকে-তে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেন, যার মধ্যে স্কুলে শিক্ষামূলক কর্মশালা, স্মরণীয় অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক স্তরে হোলোকাস্টের ইতিহাস প্রচার অন্তর্ভুক্ত। তার প্রচেষ্টা তরুণ প্রজন্মকে সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে সচেতন করতে সহায়তা করেছে।

শ্লসের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে অ্যান ফ্র্যাঙ্ক ট্রাস্ট জানিয়েছে যে তিনি ৩ জানুয়ারি লন্ডনে মারা গেছেন। ট্রাস্টের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্লসের শৈশবের সময়ের স্মৃতি, গোপনীয়তা এবং শিবিরে বেঁচে থাকা তার পরবর্তী কাজের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মৃত্যু হোলোকাস্ট শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় ক্ষতি, তবে তার কাজের ধারাবাহিকতা নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে বজায় থাকবে।

শ্লসের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে অতীতের কষ্টকে ভুলে না গিয়ে ভবিষ্যতে সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি, বিশেষ করে হোলোকাস্টের মতো মানবিক দুর্যোগ, পাঠ্যপুস্তকে শুধু তাত্ত্বিকভাবে নয়, বাস্তব জীবনের উদাহরণ ও সাক্ষ্য দিয়ে বিশ্লেষণ করা উচিত। এতে শিক্ষার্থীরা অতীতের ভুল থেকে শিখে বর্তমান ও ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments