প্রিমিয়ার লিগের হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে ব্রেন্টফোর্ডের ঘরে এভারটনের বিপর্যয়কর পারফরম্যান্সের পরিণতি দেখা গেল। ইগর থিয়াগো তিনটি গোল করে হ্যাট-ট্রিক সম্পন্ন করার সঙ্গে সঙ্গে ভিজিটর দলটি সেভেন্থ পজিশনে উঠে এলো।
ম্যাচের সূচনা থেকেই উভয় দলের মনোভাব স্পষ্ট ছিল। স্টেডিয়ামের পরিবেশ শূন্য, এবং ডেভিড ময়েসের অধীনে এভারটনও তেমনই অনুপ্রাণিত ছিল না। তবে শুরুর কয়েক মিনিটে ডুইট মেকনিলের আক্রমণাত্মক চালনা ক্যাওইমিন কেলেহারের দৃষ্টিতে জ্যাক গ্রিলিশের লে-অফ থেকে একটি চমৎকার সেভে পরিণত হয়।
মেকনিলের কর্নার থেকে জেমস টার্কোস্কির হেডারটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারল না; থিয়াগো লাইন থেকে পরিষ্কার করে দিল। এই ঘটনা ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ঘটেছিল, যা এভারটনের একমাত্র প্রাথমিক হুমকি হিসেবে রেকর্ড হয়।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে, ক্রিস্টোফার আজারের মাথায় আঘাতের ফলে অতিরিক্ত পাঁচ মিনিটের সময় যোগ করা হয়। তবে এ সময়ে এভারটন আর কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ দেখাতে পারেনি, যদিও টাইলার ডিবলিং এবং মেকনিলের অবদান সীমিত ছিল।
ব্রেন্টফোর্ডের খেলোয়াড়রা পুরো ম্যাচ জুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং সুশৃঙ্খল রূপে আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছিল। তাদের ধারাবাহিক চাপের ফলে হাফটাইমের আগে আরও একাধিক সুযোগ তৈরি হয়, তবে শেষ পর্যন্ত গোলের রূপ নেয় না।
দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের মধ্যে থিয়াগোর প্রথম গোলটি নেমে আসে। এভারটনের ডিফেন্স তার শারীরিক শক্তি এবং চলাচলের গতি সামলাতে পারেনি, ফলে থিয়াগো সহজে বলটি নেটের মধ্যে পাঠায়।
এরপরের মুহূর্তে ব্রেন্টফোর্ডের আক্রমণ আরও তীব্র হয়। কেভিন শেডে ফাউল দাবি করে পড়ে যাওয়ার পর টার্কোস্কি অযত্নে একটি পাস ভিটালি জ্যানেল্টের দিকে পাঠায়, যা দ্রুতই গোলের সুযোগে রূপান্তরিত হয়।
থিয়াগোর দ্বিতীয় গোলের পর, তিনি তৃতীয়বার নেটের পিছনে বলকে স্থাপন করে হ্যাট-ট্রিক সম্পন্ন করেন। এই মুহূর্তে এভারটনের আত্মবিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায় এবং স্কোরের পার্থক্য বাড়ে।
ম্যাচের শেষে ব্রেন্টফোর্ডের জয় নিশ্চিত হয়, এবং দলটি লিগ টেবিলে সেভেন্থ পজিশনে উঠে আসে। এই অবস্থান অর্জন করে দলটি শীর্ষ আটের মধ্যে ফিরে এসেছে, যা তাদের মৌসুমের পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগায়।
ইগর থিয়াগোর এই মৌসুমের গোলসংখ্যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে হ্যাল্যান্ড, মবাপ্পে এবং কেনের পরে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তিনি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উৎপাদনশীল ফরোয়ার্ডদের মধ্যে অন্যতম।
ব্রেন্টফোর্ডের দূরবর্তী ম্যাচে পরাজয়ের সংখ্যা এখনো ওয়ুলভসের চেয়ে বেশি, যা তাদের এই মৌসুমের সবচেয়ে দুর্বল দিক হিসেবে রয়ে গেছে। তবে এভারটনের দুর্বল পারফরম্যান্স এবং অনুপস্থিতি দলকে এই জয় এনে দিয়েছে।
পরবর্তী সপ্তাহে ব্রেন্টফোর্ডের পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী হবে লিভারপুল, যেখানে তারা শীর্ষ চারের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এভারটনও তাদের পরবর্তী গেমে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করবে, তবে বর্তমান ফর্মে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ বড়।



