রবিবার, ৪ জানুয়ারি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও অপারেটরদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে। মন্ত্রণালয় জানায় দেশীয় তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত, তবে কিছু খুচরা বিক্রেতা কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করছে এবং এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ১,০৫,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হলেও, ডিসেম্বর মাসে তা ১,২৭,০০০ মেট্রিক টনে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি সরবরাহের কোনো ঘাটতি নির্দেশ করে না এবং বাজারে যথেষ্ট স্টক নিশ্চিত করে।
মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দাম বাড়াতে পারে—এই ধারণা থেকেই খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এ ধারণা ভ্রান্ত প্রমাণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিইআরসি একই দিনে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,২৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই মূল্য বৃদ্ধি সরকারী অনুমোদিত এবং বাজারের বাস্তব চাহিদা ও আমদানি খরচের প্রতিফলন।
বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকটের ফলে আমদানি পর্যায়ে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। তবে এই সমস্যাগুলি সাময়িক এবং মোট সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেনি, ফলে দেশীয় বাজারে কোনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা যায়নি।
অপারেটরদের এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) সহজীকরণ এবং ভ্যাট হ্রাসের দাবি নিয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও সুবিধাজনক করতে লক্ষ্যভুক্ত।
কৃত্রিম সংকট নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই mobile courts-এ শাস্তি আরোপের জন্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় চাওয়া হয়েছে, যাতে অবৈধ কার্যকলাপ দ্রুত দমন করা যায়।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আজই এই বিষয় নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশের পরিকল্পনা জানিয়েছে, যাতে সকল স্টেকহোল্ডারকে পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া যায়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মজুতের পর্যাপ্ততা শিল্প ও গৃহস্থালী উভয়ের চাহিদা পূরণে সহায়ক, তবে দাম বৃদ্ধি গৃহস্থালী বাজেটের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর জন্য এই বৃদ্ধি অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করতে পারে।
রিটেইলারদের জন্য কঠোর শাস্তি আরোপের ফলে স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত মূল্য নির্ধারণে উৎসাহ বাড়বে বলে আশা করা যায়। নিয়ম মেনে চলা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের সুযোগ হবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, যদি বিশ্ববাজারে দাম স্থিতিশীল থাকে তবে আমদানি খরচে বড় পরিবর্তন না ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জাহাজের প্রাপ্যতা ও আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্সে কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যাঘাত হলে সরকার অতিরিক্ত নীতি সমন্বয় করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সরকার পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত নিশ্চিত করে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, দাম বৃদ্ধি অনুমোদিত হয়েছে এবং বাজারের স্বচ্ছতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতি পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে।



