নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ১২ জানুয়ারি থেকে নিরাপদ এলাকায় অবস্থিত সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো পুনরায় কার্যক্রম শুরু করবে। এই সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের পর নেওয়া হয়েছে।
নাইজার রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ উল্লেখ করেছে যে, পুনরায় খোলার অনুমোদন শুধুমাত্র “নিরাপদ ও সুরক্ষিত” অঞ্চলগুলোতে দেওয়া হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল না হলে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে। তালিকা প্রকাশের জন্য মন্ত্রণালয় এখনো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নভেম্বর মাসে পশ্চিম নাইজেরিয়ার পাপিরি গ্রামে অবস্থিত সেন্ট মেরি ক্যাথলিক স্কুল থেকে ২৫০ের বেশি ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মী অপহৃত হয়েছিল। এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ অপহরণ হিসেবে চিহ্নিত।
অপহরণকৃত সকল ব্যক্তিকে ক্রিসমাসের ঠিক আগে মুক্তি পাওয়া যায়; তবে মুক্তির পদ্ধতি বা কোনো মুক্তিপণ প্রদান করা হয়েছে কিনা তা সরকারীভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বছরের পর বছর ধরে, নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠী, যাদের স্থানীয়ভাবে “ব্যান্ডিট” বলা হয়, হত্যা ও অপহরণের কাজ করে আসছে। বিশেষ করে উত্তর-মধ্যাঞ্চলে এই ধরনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও এই গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।
সরকারি দৃষ্টিতে এই অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। যদিও নাইজেরিয়ায় মুক্তিপণ প্রদান অবৈধ, তবে বাস্তবে তা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে দেশের স্কুলগুলোতে মোট ১,৫০০ের বেশি শিশু অপহরণ হয়েছে; এর মধ্যে ২০১৪ সালের চিবক অপহরণে ২৭৬টি মেয়ে অন্তর্ভুক্ত। এই পরিসংখ্যান নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
মন্ত্রণালয় এখনও কোন কোন বিদ্যালয় পুনরায় খোলা হবে তা নির্ধারণ করে না; তবে নিরাপদ বলে বিবেচিত না হওয়া এলাকায় বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে যতক্ষণ না নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।
পুনরায় শুরু হওয়া শিক্ষার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দ্রুত রেজিস্টার করতে হবে এবং রেজিস্ট্রেশন তথ্য এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বিদ্যালয় ও তার পারিপার্শ্বিক এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ স্তরে থাকে।
আপনার সন্তান যদি এই অঞ্চলে পড়ে, তবে স্কুলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করুন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করুন। নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।



