প্রধানমন্ত্রীর কীর স্টার্মার সম্প্রতি ব্রিটিশ-ইজিপশিয়ান মানবাধিকার কর্মী আলা আবদেল ফাত্তাহকে যুক্তরাজ্যে স্বাগত জানাতে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। ফাত্তাহের পুরনো সামাজিক মিডিয়া পোস্টে জায়নিজদের হত্যা করার আহ্বান অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সম্প্রতি প্রকাশে আসার পর রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে।
স্টার্মার এই মন্তব্যটি বিবিএসের “সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ” প্রোগ্রামে জানিয়েছেন। তিনি পোস্টগুলোকে “অশোভন” বলে উল্লেখ করে, স্বাগত জানানোর সময় এসব তথ্য জানার সুযোগ না পেয়েছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, সরকারকে এই ধরনের তথ্যের প্রতি আরও সতর্ক হতে হবে এবং বর্তমান ব্যবস্থায় ত্রুটি স্বীকার করেছেন।
ফাত্তাহের যুক্তরাজ্যে আগমনের পর, কনজারভেটিভ, রিফর্ম ইউকে এবং কিছু সিনিয়র লেবার সংসদ সদস্যেরা তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি তোলেন। তারা যুক্তি দেন, এমন পোস্টের মালিককে দেশের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা উচিত।
ব্রিটিশ সরকার পূর্বে ফাত্তাহের যুক্তরাজ্যে আসার জন্য উভয় কনজারভেটিভ ও লেবার সরকারই সমর্থন জানিয়েছিল। তবে তার সামাজিক মিডিয়া ইতিহাস সম্পর্কে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অজ্ঞ ছিলেন বলে জানা যায়। স্টার্মার উল্লেখ করেন, ফাত্তাহের কেসটি দূতাবাসের কর্মীদের দ্বারা “কনসুলার কেস” হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, কারণ তিনি ব্রিটিশ নাগরিক এবং বিদেশে অনুপযুক্তভাবে আচরণ করা হচ্ছিল।
বক্সিং ডে-তে স্টার্মার ফাত্তাহের আগমনের পর আনন্দ প্রকাশ করেন, উল্লেখ করেন যে তিনি ইজিপ্টের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তার পরিবারে পুনর্মিলিত হয়েছেন। তবে এখন তিনি স্বীকার করেন, ফাত্তাহের পূর্বের পোস্টগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতা একটি বড় ব্যর্থতা। তিনি বলেন, এই ত্রুটি সংশোধনের জন্য একটি পর্যালোচনা চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশ্ন করা হলে স্টার্মার জানান, কেন সরকার ফাত্তাহের পটভূমি যাচাই করতে ব্যর্থ হয়েছে তা তিনি নিজেও অনুসন্ধান করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি এই তথ্য জানার অধিকারী হতেন, তবে তা না জানার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এধরনের ত্রুটি রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফাত্তাহের কেসে যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নজর রাখছেন। তারা দাবি করেন, নাগরিকত্বের প্রশ্নের পাশাপাশি ফাত্তাহের মানবাধিকার রক্ষার দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। তবে সরকার এখনো ফাত্তাহের নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
এই ঘটনার পর, লেবার পার্টির অভ্যন্তরে কিছু সিনিয়র সদস্য ফাত্তাহের স্বাগত জানানোর প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা দাবি করেন, ভবিষ্যতে এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পটভূমি যাচাইয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া গঠন করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, স্টার্মার ফাত্তাহকে স্বাগত জানানোর পর তার পুরনো পোস্টের প্রকাশে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন এবং এই ত্রুটির জন্য সরকারী ব্যবস্থার পর্যালোচনা চালু করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি তুলেছে, আর সরকার এখনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নির্ধারণের অপেক্ষায়।



