মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রবিবারের একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সময় ও বাস্তব সুযোগ প্রদান করতে ইচ্ছুক। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলাকে তার সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটি স্পষ্ট এবং ব্যবহারিক সুযোগ দেবে, যা আন্তর্জাতিক নিয়মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
রুবিও উল্লেখ করেন, নিকোলাস মাদুরোর সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা গড়ে ওঠেনি, তবে ভেনেজুয়েলাকে একটি উদার সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। এই সুযোগের মূল উদ্দেশ্য হল মাদুরো সরকারকে তার নীতি ও পদক্ষেপে পরিবর্তন আনতে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে দেশীয় অস্থিরতা কমে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভেনেজুয়েলার প্রত্যাশা হল সহযোগিতার মনোভাব প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড মেনে চলা। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার কথার চেয়ে তার বাস্তবিক পদক্ষেপকে বেশি গুরুত্ব দেবে। যদি ভেনেজুয়েলা প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত চাপ আরোপের বিকল্প থাকবে।
প্রস্তাবিত চাপের মধ্যে বর্তমানে ভেনেজুয়েলার ওপর কার্যকর থাকা তেল কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে। রুবিও বলেন, এই কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি সীমাবদ্ধ করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তার অবস্থানকে প্রভাবিত করে। তিনি যুক্তি দেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার নীতি পরিবর্তনের জন্য একটি প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে, তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই ভেনেজুয়েলার নিজস্ব কর্মের ওপর নির্ভরশীল।
রুবিও আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে পর্যাপ্ত সময় দেবে যাতে সে তার অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে। এই সময়সীমা নির্দিষ্ট না করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলার সরকারকে স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি বলেন, যদি ভেনেজুয়েলা এই সুযোগকে সঠিকভাবে ব্যবহার না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে।
এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরণের নীতি পরিবর্তন ও চাপের সম্ভাবনা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী এবং বিরোধী শক্তিগুলোর জন্য একটি সংকেত হতে পারে, যা দেশীয় আলোচনায় নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, কারণ তা অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ভেনেজুয়েলার সরকার এখন এই সুযোগকে কীভাবে ব্যবহার করবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে। রুবিওর মন্তব্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলাকে তার সমস্যার সমাধানে সহায়তা করা, তবে তা শুধুমাত্র কথায় নয়, বাস্তবিক পদক্ষেপে ভিত্তিক হবে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কোন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ভেনেজুয়েলার সরকারী নীতি ও কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।
এই উন্নয়নটি যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকায় কূটনৈতিক নীতি ও মানবিক সহায়তার একটি নতুন দিক নির্দেশ করে। রুবিওর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সংকট সমাধানে কেবলমাত্র নীতি নয়, বাস্তবিক সহায়তা ও সময়সীমা প্রদান করতে চায়, যাতে দেশটি স্বনির্ভরতা অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারে।



