সিলেটের গ্লাভস স্টেডিয়ামে রবিবার রাতের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ম্যাচে রংপুর রাইডার্স ১৫৫ রান তৈরি করে, ধাক্কা ক্যাপিটালসকে পাঁচ রান পার্থক্যে পরাজিত করে। বামহাতের দ্রুতগতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের শেষ ওভার পারফরম্যান্স দলকে জয় নিশ্চিত করে।
মুস্তাফিজুরের দলীয় ফিরে আসা বিশেষ দৃষ্টিতে দেখা হয়। তিনি একদিন আগে ইনডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দলের কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে ছাঁটাই হন, যা বিসিসির নির্দেশনা অনুসারে করা হয়। একই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তের আলোকে তার উপস্থিতি মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই ম্যাচে তিনি প্রথমবার মাঠে ফিরে আসেন এবং তৎক্ষণাৎ তার পরিচিত ‘ডেথ-ওভার’ দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
ধাক্কা ক্যাপিটালস ১৫৬ রান চেয়েছিল। ১৭তম ওভারে ১৩১/৩ স্কোরে তারা ২৫ রান দরকার ছিল ১৮ বলের মধ্যে। মুস্তাফিজুরের প্রথম দুই ওভারে তিনি ১৭ রান দিয়েছিলেন, তবে তৃতীয় ওভারে তিনি মাত্র দুই রানই ছেড়ে শামিম হোসেনকে (১১) আউট করেন, ফলে লক্ষ্য ২৩ রানে কমে যায় শেষ দুই ওভারের জন্য।
রাইডার্সের এক দ্রুতগতি পেসার আকিফ জাভেদ ১৯তম ওভারে ১৩ রান দেন, যা ধাক্কার পক্ষে গতি বাড়িয়ে দেয়। তবে শেষ ওভারটি মুস্তাফিজুরের হাতে এসে দাঁড়ায়। তিনি মাত্র চার রানই ছেড়ে শেষ ওভার সম্পন্ন করেন, ফলে রাইডার্সের জয় নিশ্চিত হয়।
ধাক্কা ক্যাপিটালসের শেষ দুই ওভারে কিছুটা ঝুঁকি নেওয়া সত্ত্বেও, সেট বাটার মোহাম্মদ মিঠুন (৫৬* ৩৮ বল) এবং সাব্বির রহমান (১২* ৮ বল) শেষ পর্যন্ত রান যোগ করতে পারেননি। রাইডার্সের ব্যাটিংয়ে শুরুর দিকে ৩০/৩ স্কোরে পতন ঘটলেও, মহমুদুল্লাহের স্থিতিশীল ৫১ রান (৪১ বল) এবং ডাওয়িদ মালানের ৩৩ রান (১৯ বল) মিলিয়ে ৭৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। পরে খুশদিল শাহের ৩৮* (২১ বল) শেষ মুহূর্তে দলকে ১৫৫/৫ স্কোরে নিয়ে আসে, যা লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়।
ম্যাচের পর মুস্তাফিজুরের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করা হয়, যদিও তিনি সাম্প্রতিক আইপিএল ছাঁটাই এবং জাতীয় দলের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিলেন। তার শীতল গতি এবং শেষ ওভারের আত্মবিশ্বাস রাইডার্সের জয়কে দৃঢ় করে।
রাইডার্সের পরবর্তী ম্যাচে তারা আবার সিলেটের গ্লাভস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে, যেখানে ধারাবাহিক জয় বজায় রাখতে হবে। ধাক্কা ক্যাপিটালসের জন্যও শীঘ্রই নতুন সুযোগ আসবে, তবে এই পরাজয় তাদের শীর্ষস্থানীয় অবস্থানকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বিপিএল এই সিজনে উত্তেজনা বজায় রেখেছে, এবং মুস্তাফিজুরের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। ম্যাচের পরিসংখ্যান এবং দলীয় কৌশল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শেষ ওভারগুলোতে শীতল গতি এবং সঠিক লাইন-লেংথ বজায় রাখা জয়ের মূল চাবিকাঠি। ভবিষ্যতে রাইডার্সের জন্য এই ধরনের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।



