ভারতের সংসদ সদস্য ওয়াসি আসাদুদ্দিন ৪ ডিসেম্বর, রবিবার, দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির প্রতি একটি তীব্র দাবি জানিয়ে দিলেন যে, “দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির যে বোন বসে আছে, তাকে বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়া হোক”। তিনি এই মন্তব্যটি ইকোনমিক টাইমসের মাধ্যমে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অনুরোধ করেন।
ওয়াসি উল্লেখ করেন, “মহারাষ্ট্রের (বিজেপি) সরকার মহারাষ্ট্র, মুম্বাইয়ের জনগণকে বলছে—আমরা বাংলাদেশিদের তাড়িয়ে দিয়েছি। আরও একজনকে তাড়িয়ে দিন না! মোদি জি’র বোন হিসেবে দিল্লিতে যে বসে আছে- আপনারা কি চান জনাবাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হোক?” এভাবে তিনি ভারতের কিছু রাজ্য সরকারের মন্তব্যকে সমালোচনা করে, মোদির কাছ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবি তীব্রভাবে তুলে ধরেন।
ওয়াসি অতীতে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “মোদিজি বলেছেন, বিহারে বাংলাদেশি আছে। মোদিজি বিহারে বা সীমাঞ্চল অঞ্চলে কোনো বাংলাদেশি নেই। তবে আপনার দিল্লিতে বাংলাদেশ থেকে আসা এক বোন বসে আছেন। তাকে বাংলাদেশে পাঠান। সীমাঞ্চল অঞ্চলে আনুন, আমরাই তাকে বাংলাদেশে পৌঁছে দেব!” এভাবে তিনি ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে বাংলাদেশি উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
ওয়াসির এই মন্তব্যের পেছনে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকালীন প্রেক্ষাপট রয়েছে। মহারাষ্ট্র ও মুম্বাইয়ের সরকারী মন্তব্যকে তিনি “বাংলাদেশিদের তাড়িয়ে দেওয়া” হিসেবে উল্লেখ করে, ভারতের কিছু রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে নীতি পার্থক্যকে প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে, তিনি মোদির সরকারকে সরাসরি সমালোচনা করে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবি তুলে ধরেন, যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সংবেদনশীল বিষয়কে উন্মোচিত করে।
ওয়াসি পূর্বে বিহার রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিষয়েও মন্তব্য করে, “মোদিজি বলেছেন, বিহারে বাংলাদেশি আছে” বলে, তবে তিনি যুক্তি দেন যে, সীমান্ত অঞ্চলে কোনো বাংলাদেশি নেই, তবে দিল্লিতে বাংলাদেশি এক বোন বসে আছেন। এই রূপক ব্যবহার তার বক্তব্যকে তীব্র করে এবং সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে।
এই দাবিগুলি ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত। ওয়াসির মন্তব্যের ফলে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে পারে, যা ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হতে পারে, কারণ শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আছেন এবং তার কোনো প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজন নেই।
অধিকন্তু, ওয়াসির এই প্রকাশনা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত নীতির ওপর নতুন আলো ফেলতে পারে। তিনি সীমান্ত অঞ্চলে বাংলাদেশি উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে, ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, এই ধরনের রেটোরিক্যাল দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কীভাবে গ্রহণ করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে ভারতীয় রাজনীতির অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ওয়াসির দাবি যদি সরকারী পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপে রূপান্তরিত হয়, তবে তা ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংলাপের নতুন মোড় আনতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই দাবি কেবল রাজনৈতিক রেটোরিক্যালের অংশ হিসেবে রয়ে যায়, তবে তা তাত্ক্ষণিক কোনো নীতি পরিবর্তন ঘটাবে না।
সারসংক্ষেপে, আসাদুদ্দিন ওয়াসি নরেন্দ্র মোদির প্রতি স্পষ্টভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন, এবং তিনি ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি-পরিবর্তনের দাবি তুলে ধরেছেন। তার এই মন্তব্যের ফলে ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকালীন উত্তেজনা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই দাবির বাস্তবায়ন বা তার পরিণতি কী হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



