চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের পর ৩৫ বছর বয়সী রবিউল ইসলামকে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটক করে, পরের দিনই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার ভোরের প্রায় ৪:৩০ টায়, যখন তিনজন বাংলাদেশি গরু চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নুরপুর এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে।
সীমান্ত পিলার ১৯/৭ (এস এল) এলাকার মাধ্যমে প্রবেশের সময় রাঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার বিএসএফের পাতলা টোলা সাব‑ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। দুইজন পালিয়ে যায়, তবে রবিউল ইসলাম আটক হয়। আটক হওয়ার পরের দিন, রবিবার সকালে, স্থানীয় বাসিন্দাদের জানায় যে তিনি মারা গেছেন। একই দিনে রবিউলের পরিবার বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়।
রবিউল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রাম থেকে, নিজাম উদ্দিনের পুত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গরু চোরাচালানের জন্য তিনজন একসাথে ভ্রমণ করেছিল এবং রাত্রিকালীন সময়ে সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। আটক হওয়ার পরের রাতেই তার দেহে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সন্ধ্যা ছয়টায় একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের প্রতিনিধিরা জানান, রবিউল ইসলামকে খালি গায়ে ও অর্ধ প্যান্টে অবস্থায় আটক করা হয় এবং তার পুরো দেহ ভেজা ছিল। পরে তাকে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে কাপড় প্রদান করা হয়। দেহে খিঁচুনির লক্ষণ দেখা গেলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটে।
বিএসএফের মতে, প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ অসুস্থতাজনিত। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী জানান, আটক হওয়ার পর নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গরু নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন এবং পরে রবিউলকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে, এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছেন।
বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমানের বিবরণে বলা হয়েছে, রবিউল ইসলামের দেহ বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে এবং লাশ ফেরত পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে। ময়নাতদন্তের ফলাফল না জানার পরেও, উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তদন্তের দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি ঘটনাস্থল, ক্যাম্পের রেকর্ড এবং হাসপাতালের চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা করবে। এছাড়া, গরু চোরাচালানসহ অবৈধ সীমান্ত পারাপারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, আটককালে রবিউলের দেহে কোনো শারীরিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে তার শারীরিক অবস্থা দুর্বল ছিল। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর, তার শ্বাসকষ্ট ও হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে এই পতাকা বৈঠকটি ঘটনার পরপরই অনুষ্ঠিত হওয়ায়, উভয় পক্ষই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে পরিবার এখনও দেহের হস্তান্তর ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ধরনের সীমান্ত পারাপার ও গরু চোরাচালান সংক্রান্ত ঘটনা পূর্বে বহুবার ঘটেছে, যা উভয় দেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।



