ফ্লোরিডার মার‑এ‑লাগোতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন যে, মার্কিন সেনাবাহিনী নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করেছে এবং ভেনেজুয়েলা দেশের প্রশাসন সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে, যতক্ষণ না নিরাপদ ও সুষ্ঠু স্থানান্তর নিশ্চিত হয়।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, প্রয়োজন হলে মাটিতে সৈন্য পাঠাতে দ্বিধা করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।
রাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও জানান, তিনি ভেনেজুয়েলার উপ-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের সঙ্গে কথা বলেছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা মেনে চলতে ইচ্ছুক বলে জানান। রড্রিগেজের মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছু আমরা করব”।
মার‑এ‑লাগোর সম্মেলনে রুবিও এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ উভয়ই ট্রাম্পের পদক্ষেপকে প্রশংসা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।
অন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠী (International Crisis Group) অক্টোবর মাসে সতর্কতা জারি করে যে, মাদুরোর পতন ভেনেজুয়েলায় সহিংসতা ও অস্থিরতা বাড়াতে পারে। গোষ্ঠী উল্লেখ করে, ক্ষমতার শূন্যতা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
একই সময়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করে যে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা মাদুরো পতনের পর সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে সিমুলেশন চালিয়েছিলেন। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, যদি মাদুরো অপসারণ হয় তবে দেশ জুড়ে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
মাদুরোকে গ্রেফতার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর পাঠায়, যার মধ্যে যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী জাহাজ এবং বিমানবাহিনীর সমর্থন অন্তর্ভুক্ত ছিল। অপারেশনটি সম্পন্ন হওয়ার সময় কোনো আমেরিকান সৈন্যের প্রাণহানি হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার সফলতা নির্দেশ করে।
মাদুরো তার শাসনকালে নির্বাচনী ফলাফলকে উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলীয় জনগণের ইচ্ছাকে অস্বীকার করে আসছিলেন; তার এই পদক্ষেপ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছিল।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক কর্তৃপক্ষের অধিকারিক ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং অন্যান্য দেশকে সামরিক হুমকি দিয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকায় এই ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর নীতি ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করা হবে যতক্ষণ না নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত স্থানান্তর নিশ্চিত হয়, তবে স্থানান্তরের সময়সূচি ও শর্তাবলী এখনো স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারিতে এই প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।



