বাংলাদেশের ইনকাম ট্যাক্স আইন ২০২৩-এ প্রবাসী ও দেশের বাইরে বসবাসরত নাগরিকদের জন্য বিশেষ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই ধারা প্রযোজ্য হয় তাদের উপর, যাঁরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন অথবা বিদেশে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। মূল উদ্দেশ্য হল দেশের মধ্যে অর্জিত আয়ের উপর সঠিক ও স্বচ্ছ কর সংগ্রহ নিশ্চিত করা।
ধারা ১৯৩ অনুযায়ী, প্রস্থানকারী ব্যক্তির কর নির্ধারণ তার আর্থিক বছরের শেষের আগে শুরু হয়। এই প্রক্রিয়া কর ফাঁকি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর নির্ধারণের সময় যদি কোনো কর আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে তা শেষ আর্থিক বছরের শেষ দিন থেকে প্রত্যাশিত প্রস্থানের তারিখ পর্যন্ত সময়ের জন্য হিসাব করা হবে।
অর্থাৎ, প্রত্যাশিত প্রস্থানের তারিখ ও শেষ আর্থিক বছরের মধ্যে যে সময়কাল থাকে, তার জন্য নির্ধারিত কর সেই আর্থিক বছরের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। যদি প্রস্থানকারী ব্যক্তি আগে কোনো কর না প্রদান করে থাকেন, তবে তার পুরো অবস্থানকালীন আয়ের উপর প্রযোজ্য হারের ভিত্তিতে কর আরোপ করা হবে।
এই ক্ষেত্রে, শেষ আর্থিক বছরের শেষ দিন থেকে প্রস্থানের তারিখ পর্যন্ত সময়ের করও একই আর্থিক বছরের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে, প্রবাসী নাগরিকদের জন্য তাদের দেশের মধ্যে কাজের সময়ের মোট আয় নির্ধারণ করে প্রস্থান পূর্বে কর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।
কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ার দ্রুততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, ডেপুটি কমিশনার (ট্যাক্স) এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আয় যাচাই, কর হিসাব এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে তত্ত্বাবধান করেন। এই পদক্ষেপগুলো কর সংগ্রহের দক্ষতা বাড়ায় এবং সম্ভাব্য বিরোধ কমায়।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন বিধানটি বিদেশে কাজ করা বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য পূর্বনির্ধারিত কর দায়িত্ব তৈরি করে। এভাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সময় কর সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমে, যা বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, করদাতাদের জন্য প্রস্থান পূর্বে আয় নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যারা একাধিক আয় উৎসের মাধ্যমে উপার্জন করেন, তাদের জন্য সঠিক হিসাব রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
বাজারে এই পরিবর্তনের ফলে কর পরামর্শদাতা ও হিসাবরক্ষণ সংস্থার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তারা প্রস্থানকারী নাগরিকদের জন্য কর পরিকল্পনা, রিটার্ন ফাইলিং এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতে সহায়তা করবে।
দীর্ঘমেয়াদে, এই বিধানটি দেশের করভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। প্রস্থানকারী ব্যক্তিরা যদি তাদের আয় সঠিকভাবে রিপোর্ট করেন, তবে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে, যা অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক সেবায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে, কিছু ঝুঁকি অবশিষ্ট রয়েছে। যদি করদাতারা প্রস্থান পূর্বে আয় সঠিকভাবে ঘোষণা না করেন, তবে পরবর্তীতে অতিরিক্ত জরিমানা ও আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারেন। তাই, সময়মতো ও সঠিক তথ্য প্রদান করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, ইনকাম ট্যাক্স আইন ২০২৩-এ যুক্ত নতুন ধারা প্রবাসী ও প্রস্থানকারী নাগরিকদের জন্য কর সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে কাঠামোগত করেছে। এটি স্বচ্ছতা বাড়িয়ে দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অবদান রাখবে, তবে যথাযথ প্রস্তুতি ও পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে, সরকার যদি এই বিধানকে আরও সহজলভ্য ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনা করে, তবে করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও কম জটিল হবে। এ ধরনের উন্নয়ন কর সম্মতি বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



