প্রধানমন্ত্রীর কেয়ার স্টার্মার সম্প্রতি ব্রিটিশ টিভি চ্যানেলকে জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় একক বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করা উচিত, যদি তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এই মন্তব্যটি একটি সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নীতি এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন।
স্টার্মার উল্লেখ করেন, একক বাজারের দিকে মনোযোগ দেওয়া কাস্টমস ইউনিয়নের তুলনায় বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোকে রক্ষা করার জন্য অধিক সুবিধাজনক। তিনি যুক্তরাজ্যের ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে চুক্তিগুলোকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এই চুক্তিগুলো জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাই একক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, লেবার পার্টির পূর্ববর্তী ম্যানিফেস্টোর প্রতিশ্রুতি, যেমন একক বাজার বা কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগদান না করা এবং স্বাধীন চলাচল শেষ না করা, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে না। এই অবস্থানটি সরকারী ‘লাল রেখা’র অংশ হিসেবে ডাউনিং স্ট্রিটের ডিসেম্বরের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্টার্মারের এই মন্তব্যগুলো ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ককে বিস্তৃত করার ইচ্ছার সর্বশেষ স্পষ্ট সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ইউরোপীয় সমন্বয়কে আরও গভীর করার জন্য চাপ বাড়ছে, এবং প্রধানমন্ত্রী এই চাপের প্রতি সাড়া দিয়ে ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।
ব্রিটেন ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কিছু নিয়মাবলী, বিশেষত খাদ্য ও কৃষি সংক্রান্ত, সমন্বয় করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যাতে একক বাজারের প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা যায়। এই সমন্বয়গুলো বৃহৎ অর্থনৈতিক জোনের সঙ্গে প্রবেশের পথ সুগম করবে এবং বাণিজ্যিক বাধা হ্রাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, যদি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে, তবে একক বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা যুক্তিযুক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের সমন্বয় কেবল বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই চুক্তিগুলো দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাই একক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাস্টমস ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় এখন দেশের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ডাউনিং স্ট্রিটের পূর্ববর্তী ঘোষণায় সরকার একক বাজার, কাস্টমস ইউনিয়ন এবং স্বাধীন চলাচল সংক্রান্ত ‘লাল রেখা’ বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে। এই নীতি অনুসারে, যুক্তরাজ্য কোনো সময়ে এই ক্ষেত্রগুলোতে পুনরায় যোগদান না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। স্টার্মারের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো এই নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ নয়, বরং সমন্বয়ের মাত্রা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে।
লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ইউরোপীয় সমন্বয়কে আরও গভীর করার জন্য চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, স্টার্মার এই অবস্থানকে ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে গত দশকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মধ্যে সর্বোত্তম সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
ভবিষ্যতে, যুক্তরাজ্য কীভাবে ইউরোপীয় একক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে, তা নির্ভর করবে পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনার ফলাফলের ওপর। তবে বর্তমান অবস্থায়, স্টার্মার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যদি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে, তবে একক বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের বাণিজ্য নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন করতে পারে।



