শুক্রবার সন্ধ্যা ৪টায় ডেমো গ্রামের কাসুওয়ান দাজি বাজারে স্থানীয়ভাবে “ডাকাত” নামে পরিচিত গুলিবর্ষণ ঘটেছে। গুলিবর্ষণের ফলে ৩০ের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং কিছু লোককে অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গুলিবর্ষণ, অগ্নিকাণ্ড এবং খাদ্য সামগ্রীর লুটপাট একসাথে ঘটেছে।
পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠী বিকেল সাড়ে চারটায় বাজারে ঢুকে দোকানগুলোকে আগুনে জ্বালিয়ে ফেলে এবং খাবার চুরি করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই হামলায় ৩০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে; অপহৃতদের উদ্ধার কাজ বর্তমানে চলমান।
সাক্ষীরা বলছেন, গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠী মোটরসাইকেল ব্যবহার করে দ্রুত বাজারে প্রবেশ করে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলির শিকারদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু অন্তর্ভুক্ত, এবং কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না।
এই হামলা শুক্রবার থেকে আগওয়ারা ও বোরগু গ্রাম এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ঘটতে থাকা হিংসাত্মক আক্রমণের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, একই গোষ্ঠী পূর্বে ওই এলাকায় অনিয়মিত গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ী হয়েছে।
আহত দাউদা শাকুল্লে, যিনি হামলার সময় আহত হয়ে পালিয়ে গেছেন, জানান, “নারী-শিশুদেরও কোনো রেহাই দেওয়া হয়নি। হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো উপস্থিতি ছিল না, আমরা এখন মৃতদেহ সংগ্রহ করছি।” তার কথায় ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা শূন্যতা স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে দেশের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র ডাকাতির সংখ্যা বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে, একই অঞ্চলে ৩০০েরও বেশি শিশু ও শিক্ষক-কর্মীকে অপহরণ করা হয়েছিল; তারা প্রায় এক মাসের বন্দিদশার পর মুক্তি পায়। এই ঘটনার পরপরই দাজি বাজারে গুলিবর্ষণ ঘটায়, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে।
অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী গ্রামাঞ্চলে গণহত্যা, লুটপাট এবং অপহরণ চালিয়ে আসছে। নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযান সত্ত্বেও, এই গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম দমে না গিয়ে বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে এবং গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠীর পরিচয় ও দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অপহৃতদের উদ্ধার ও মৃতদেহের সনাক্তকরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে অতিরিক্ত গার্ড ও পেট্রোলিং চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় জনগণ উদ্বেগে রয়েছে।



