শ্রেয়াস ইয়ার নতুন জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, তবে তার অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসি আই) দল ঘোষণা করার সময় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে ইয়ারের উপস্থিতি শুধুমাত্র ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।
ইয়ার শেষবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ছিলেন অক্টোবর মাসে, যখন তিনি একটি ওডিআই ম্যাচে অংশ নেন। সিডনি তে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচের সময় তার প্লীনা আঘাতের ফলে স্প্লিনে আঘাত হয়, যা তাকে তৎকালীন থেকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে বাধ্য করে।
সেই আঘাতের পর থেকে ইয়ার কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করেননি এবং দেশীয় লিগে ফিরে আসার পরেও তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা পুনরায় মূল্যায়নের জন্য বিসিসি আইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে ধারাবাহিক মেডিক্যাল চেকআপ চালু রয়েছে।
বিসিসি আই নতুন জিল্যান্ডের বিপক্ষে নির্ধারিত তিনটি ওডিআইয়ের জন্য দল গঠন করে এবং ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে, “শ্রেয়াস ইয়ারের অংশগ্রহণ শর্তসাপেক্ষে, ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পাওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত হবে।” এই বিবৃতি ইয়ারের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের জন্য একমাত্র আনুষ্ঠানিক শর্ত হিসেবে কাজ করছে।
মেডিক্যাল টিমের সূত্রে জানা যায়, ইয়ার বর্তমানে পুনর্বাসন প্রোগ্রাম অনুসরণ করছেন এবং শারীরিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নিচ্ছেন। তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়ায় বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তিনি সিরিজের প্রথম ম্যাচে না গিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় ম্যাচে উপস্থিত হতে পারেন।
বিসিসি আইয়ের সিদ্ধান্তে যদি ইয়ার প্রথম ম্যাচে অংশ নিতে না পারেন, তবে তার ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পাওয়া মাত্রই তিনি দলের বাকি দুই ম্যাচে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এই সম্ভাবনা দলকে ব্যাটিং লাইনআপে অতিরিক্ত শক্তি যোগাবে, বিশেষ করে শীর্ষ ক্রমে তার অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়ারকে শীর্ষ ক্রমের ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তার উপস্থিতি দলের মোট স্কোরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তার অংশগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন শুধুমাত্র মেডিক্যাল ক্লিয়ারেন্সের পরে হবে, যা বিসিসি আইয়ের নিরাপত্তা নীতির অংশ।
সিরিজের সময়সূচি অনুযায়ী, নতুন জিল্যান্ডের সঙ্গে তিনটি ওডিআই ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে, এবং প্রতিটি ম্যাচের আগে দলীয় প্রস্তুতি ও ফিটনেস চেকের জন্য যথেষ্ট সময় রাখা হয়েছে। এই সময়সূচি ইয়ারকে তার শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণভাবে যাচাই করার সুযোগ দেবে।
বিসিসি আই পুনরায় জোর দিয়েছে যে খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং কোনো খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণের আগে ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক। এই নীতি অনুসরণ করে ইয়ারকে তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে শেষ করার পরই ম্যাচে নামিয়ে দেওয়া হবে।
ইয়ারের সম্ভাব্য ফিরে আসা ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে, এবং মিডিয়া ঘনিষ্ঠভাবে তার ফিটনেস আপডেট অনুসরণ করছে। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমান করা হয় না, তবু তার পুনরায় মাঠে দেখা পাবলিকের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
সারসংক্ষেপে, ইয়ারের ওডিআই ফিরে আসা এখনো ফিটনেস ক্লিয়ারেন্সের ওপর নির্ভরশীল, এবং তার অংশগ্রহণের নিশ্চিতকরণ সিরিজের শুরুর আগে হবে। বিসিসি আইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই তার উপস্থিতি নিশ্চিত হবে, যা ভক্তদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট হবে।



