নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ৪ জানুয়ারি রবিবার কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সভায় জানিয়েছেন, নির্বাচনের পূর্বে সারা দেশে যৌথবাহিনীর নিরাপত্তা অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আজই জারি হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
ইসি সানাউল্লাহ সভায় তিনটি মূল লক্ষ্য তুলে ধরেন। প্রথম লক্ষ্য হল অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও উদ্ধার, যাতে নির্বাচনের সময় কোনো অনধিকারী অস্ত্র ব্যবহার না হয়। দ্বিতীয় লক্ষ্য হল পূর্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনা। তৃতীয় লক্ষ্য হল নির্বাচনকেন্দ্রিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে তা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
অভিযানের সূচনা সম্পর্কে তিনি আশ্বাস দেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র আজই জারি হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব হেডকোয়ার্টারকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে। সকল বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে ইসি নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একত্রে মিটিং করেছেন এবং যৌথবাহিনীর কার্যক্রমের সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
অবৈধ অস্ত্রের সংগ্রহের ক্ষেত্রে, ইসি উল্লেখ করেন যে নির্বাচনের আগে বাজারে প্রবেশ করা সম্ভাব্য অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। যেসব অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব না, সেগুলোকে কোনো অপকর্মে ব্যবহার না করা যায় তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার সংক্রান্ত অংশে তিনি বলেন, পূর্বে চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে এবং তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশকে নিরাপদ রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে, ইসি জানান যে বড় ধরনের লঙ্ঘন হলে যৌথবাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে, আর ছোটখাটো লঙ্ঘন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কমিটি দ্বারা সমাধান করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সকল প্রকার অনিয়মের প্রতি শূন্য সহনশীলতা থাকবে।
রেহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তা সম্পর্কেও ইসি সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিবিরগুলোকে সিল করে রাখতে হবে এবং স্থল ও সমুদ্র সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী শিবিরের সুবিধা নিয়ে অবৈধ কার্যকলাপ না করতে পারে। এই নির্দেশনা রেহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
ইসি সানাউল্লাহ নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে না হয়, তবে তার পরিণতি পুরো সমাজের ওপর প্রভাব ফেলবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে, এখন পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দলগুলো থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনী নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপের ব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রচার ও ভোটারদের চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসির এই ঘোষণার পর, বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যৌথবাহিনীর কার্যক্রমের সূচনা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
অবশেষে, ইসি সানাউল্লাহ পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় কোনো অনধিকারী অস্ত্র, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না এবং সবার সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত ভোটদান নিশ্চিত করা হবে।



