বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আজ জুটের গুণগত বীজের সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকায় সরকারী পরামর্শদাতা স্ক বশির উদ্দিনের মন্তব্য জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই মৌসুমে উচ্চমানের জুটের বীজের অভাবের কোনো সংকট দেখা যাবে না।
উক্ত মন্তব্যটি জুটের স্পিনার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রকের আয়োজিত বৈঠকে শেয়ার করা হয়। বৈঠকটি জুটের গুণগত বীজের সরবরাহ পরিস্থিতি, বাজারের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ মজুদ সংগ্রহের কারণে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কিছু ব্যক্তি জুটের ফাইবারকে একত্রে জমা করে রপ্তানি সুবিধা নিতে চেয়েছেন, যার ফলে জুটের দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত ফার্মারদের নয়, বরং মজুদকারী ব্যবসায়ীদের লাভের দিকে নিয়ে গেছে। ফলে জুটের বাজারে অস্বাভাবিক চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং সাধারণ কৃষকদের আয় হ্রাস পেয়েছে।
অবৈধ মজুদ বন্ধ না হলে, প্রকৃত জুটের চাষী এবং পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মজুদকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রম যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বাজারের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা ক্ষুণ্ন হবে।
জুটের স্পিনার্স এসোসিয়েশনের নেতারা সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তারা জুটের মজুদ বন্ধের জন্য কঠোর আইনগত ব্যবস্থা চেয়েছেন, যাতে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং কৃষকদের সঠিক মূল্য নিশ্চিত হয়।
পরামর্শদাতা স্ক বশির উদ্দিন জানান, সরকার অবৈধ মজুদ বন্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, চারটি প্রধান জুট উৎপাদনকারী জেলা—সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং ময়মনসিংহে শীঘ্রই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে জুটের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং রপ্তানি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গুণগত বীজের সরবরাহ নিশ্চিত হবে। কৃষকরা সঠিক মূল্যে ফসল বিক্রি করতে পারবে, যা তাদের আয় বৃদ্ধি করবে এবং দেশের জুট রপ্তানি সম্ভাবনা শক্তিশালী হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অবৈধ মজুদ বন্ধের মাধ্যমে জুটের দাম অতিরিক্ত উত্থান-পতন থেকে রক্ষা পাবে। ফলে জুটের উৎপাদন ও রপ্তানি পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।
তবে, আইন প্রয়োগে যদি দেরি হয় বা পর্যাপ্ত তদারকি না করা হয়, তবে মজুদকারী গোষ্ঠীর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যাবে। তাই, সরকারকে ত্বরিতভাবে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
সারসংক্ষেপে, জুটের গুণগত বীজের সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকায় বাজারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। অবৈধ মজুদ বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সরকার জুটের বাজারকে স্বচ্ছ ও ন্যায্য রাখতে চাচ্ছে, যা কৃষক, রপ্তানি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে।



