গুলশান, ঢাকা – আজ গুলশান রাহমানের বাসার আশেপাশে দুইজন পুরুষকে সন্দেহজনক আচরণে ধরা পড়ে পুলিশ ও সিভিল সেফটি ফোর্স (সিএসএফ) গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের মূল কারণ ছিল বাসা ও পার্শ্ববর্তী গাড়িগুলোর বিভিন্ন কোণ থেকে ছবি তোলার প্রচেষ্টা, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান।
প্রথমে ৪৬ বছর বয়সী মোঃ রুহুল আমিনকে আটক করা হয়। তিনি চাঁদপুরের মাটিলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে আসা বলে জানা যায় এবং সকালবেলায় বাসার সামনে বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তোলার কাজ করছিলেন। তার এই কাজটি পার্শ্ববর্তী গাড়ি ও গেটের দৃশ্য ধারণের উদ্দেশ্যে ছিল বলে অনুমান করা হয়।
রুহুল আমিনের আচরণকে সন্দেহজনক বলে পুলিশ তার সঙ্গে প্রশ্নোত্তর সেশনের আয়োজন করে এবং পরে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকালে তাকে জানানো হয় যে, বাসা ও পার্শ্ববর্তী সম্পত্তির নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এমন কাজ অনুমোদিত নয়।
এরপর একই এলাকায় আরেকজন ব্যক্তি, মোঃ ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওমর ফারুকের সম্পর্কে তেমন বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে তিনি রুহুল আমিনের সঙ্গে একই সময়ে উপস্থিত ছিলেন এবং একই সন্দেহজনক কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন।
গুলশান থানা অফিসার-ইন-চার্জ রাকিবুল হাসান ঘটনাটির সংক্ষিপ্তসার দেন। তিনি জানান, রুহুল আমিনকে বাসার চারপাশে বিভিন্ন কোণ থেকে ছবি তোলার সময় ধরা পড়ে এবং তার অস্বাভাবিক গতি পুলিশকে সতর্ক করে। এই কারণে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট দুজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে আজই গুলশান থানায় নিয়ে গিয়ে আদালতে হাজির করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে ছবি ও ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।
তরিক রহমান, বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান, গুলশান এলাকায় তার বাসা নিয়ে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগের মুখে আছেন। তার বাসা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা প্রায়ই নিরাপত্তা সংস্থার নজরে থাকে, তাই কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দ্রুত সনাক্ত করা হয়।
পুলিশ ও সিএসএফের এই দ্রুত পদক্ষেপকে নিরাপত্তা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন যে, সন্দেহজনক কার্যকলাপের প্রতি তৎক্ষণাৎ সাড়া দিয়ে সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
অধিক তদন্তে রুহুল আমিন ও ওমর ফারুকের ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত ছবি, ভিডিও ও ডেটা বিশ্লেষণ করা হবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে তারা কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছিলেন, তবে সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিকন্তু, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে যে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে জানাতে। বর্তমান তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।



