৪ জানুয়ারি ২০২৬ রবিবার, ঢাকার এক বিশাল সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত, পার্টি কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের বিশাল ভিড় শেষ যাত্রার পথে তার প্রতি সম্মান জানাতে একত্রিত হয়। উপস্থিতির পরিমাণ এতটাই বিশাল যে, সমাবেশের সময় পার্টির তরফে ভোটের জোয়ার আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সমাবেশের শুরুতে, খালেদা জিয়ার পরিবার ও পার্টি নেতারা শোকের পরিবেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সমাবেশে উপস্থিতদের মধ্যে বিশেষ করে বিএনপি কর্মী ও সমর্থকরা শোভাযাত্রা, সাদা শাড়ি ও সাদা পোশাক পরিধান করে শোক প্রকাশ করেন। সমাবেশের সময় পার্টির তরফে গৃহীত কিছু সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা, পার্টির ঐতিহাসিক গৌরব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিএনপি কর্মীরা সমাবেশকে পার্টির রাজনৈতিক শক্তি পুনরুজ্জীবনের সূচক হিসেবে উপস্থাপন করেন। বিশাল উপস্থিতি, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ, পার্টির ভোটার বেসকে পুনরায় সক্রিয় করতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন। পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে বলছেন, “এই সমাবেশে দেখা গিয়েছে যে জনগণের হৃদয়ে এখনও খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর সম্মান ও ভালবাসা রয়েছে, যা আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় শক্তি যোগাবে।”
সমাবেশে উপস্থিত এক বিশ্লেষক, যিনি নাম প্রকাশ না করে মন্তব্য করেছেন, তিনি বলেন, “এত বিশাল ভিড়ের উপস্থিতি আমাদের পার্টির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। ভোটের আগে এমন সমাবেশ পার্টির সংগঠনের ক্ষমতা ও জনমতকে মাপার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে পার্টি তার ভিত্তি পুনর্নির্মাণ করতে পারে এবং ভোটের সময়ে সমর্থকদের সক্রিয়ভাবে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।”
বিএনপি ছাড়াও, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও সমাবেশের ব্যাপকতা লক্ষ্য করেছে। যদিও কোনো দল সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই সমাবেশের ফলে আসন্ন নির্বাচনে পার্টির অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষ করে, সমাবেশে উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে তরুণ ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণ, পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
খালেদা জিয়ার পরিবারও সমাবেশের পর তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পরিবারের একজন সদস্যের মতে, “এত বড় পরিসরে আমাদের প্রিয়জনের প্রতি সম্মান জানাতে দেখা পেয়ে আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই দৃশ্য আমাদের পরিবারের জন্য চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।” এই মন্তব্যটি সমাবেশের মানবিক দিককে তুলে ধরেছে এবং পার্টির সমর্থকদের সঙ্গে পারিবারিক সংযোগকে জোরদার করেছে।
সমাবেশের পর, পার্টি কর্মীরা সমাবেশের স্থান থেকে সরাসরি ভোটার তালিকায় নাম যোগ করার জন্য নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাবেশে উপস্থিত ভিড়কে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে।
বিএনপির এই সমাবেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। বিশাল উপস্থিতি, পার্টির সংগঠন ক্ষমতা এবং ভোটার বেসের পুনরুজ্জীবন, সবই আসন্ন নির্বাচনে পার্টির অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে, ভোটের ফলাফল নির্ধারণে অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক উপাদানও ভূমিকা রাখবে, যা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।
এই সমাবেশের পর, দেশের বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সমাবেশের ছবি ও ভিডিও প্রচারিত হয়েছে, যা সমাবেশের প্রভাবকে আরও বিস্তৃত করেছে। সমাবেশের সময় সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করা পোস্টগুলোতে “শ্রদ্ধা” ও “সমর্থন” শব্দগুলো প্রাধান্য পেয়েছে, যা পার্টির সমর্থকদের মনোভাবকে প্রতিফলিত করে।
সারসংক্ষেপে, খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিশাল উপস্থিতি, বিএনপির ভোটের জোয়ার আনতে পারে এমন সম্ভাবনা এবং পার্টির সংগঠন ক্ষমতা পুনরায় যাচাই করার সুযোগ প্রদান করেছে। আসন্ন নির্বাচনে এই সমাবেশের প্রভাব কী হবে, তা সময়ের সাথে সাথে স্পষ্ট হবে।



