বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার অফিস কক্ষে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে চলতি মৌসুমে পাটবীজের সংকট সমাধানে গৃহীত পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি জানালেন, গৃহীত নীতিমালার ফলে এই মৌসুমে পাটবীজের ঘাটতি দেখা যাবে না এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় থাকবে।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাপস প্রামানিক, ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন, বোর্ড ডিরেক্টর মোহাম্মদ শাহজাহান এবং হেলাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সকল পক্ষের উপস্থিতি পাট শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে সমন্বিত আলোচনা নিশ্চিত করেছে।
অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, কাঁচা পাটের রফতানি বৃদ্ধি পেলে কিছু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে পাটবীজ মজুতদারিতে লিপ্ত হন, যার ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি সৃষ্টির পাশাপাশি দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। মজুতদারির এই অনিয়মিক কার্যকলাপ পাটের মূল উৎপাদনকারী কৃষকদের কোনো উপকারে আসছে না, বরং তারা বাজারের অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির শিকার হচ্ছে।
বাজারে মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের আয় কমিয়ে দেয় এবং পাট শিল্পের সমগ্র সাপ্লাই চেইনে চাপ সৃষ্টি করে। মজুতদারির লাভের তুলনায় উৎপাদনকারী ও প্রক্রিয়াকরণকারী সংস্থাগুলোর ক্ষতি বেশি, যা শেষ পর্যন্ত দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন জোর দিয়ে বলেন, অবৈধ মজুতদারি রোধে সরকার শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করবে। তিনি জানান, পাট উৎপাদন বেশি হয় এমন চারটি জেলায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে মজুতদারির কার্যক্রম বন্ধ করা যায় এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
এই নীতিমালা পাটবীজের সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরবরাহের ঘাটতি দূর হলে বীজের দাম স্থিতিশীল হবে, ফলে কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে বীজ ক্রয় করতে পারবে এবং উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজারে পাটের গুণমান ও পরিমাণ বজায় থাকবে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মূল্য নির্ধারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে নীতি কার্যকর করতে ত্বরিত পর্যবেক্ষণ ও কঠোর শাস্তি প্রয়োগ অপরিহার্য। যদি মজুতদারির অনিয়ম অব্যাহত থাকে, তবে বাজারে পুনরায় অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং রপ্তানি ক্ষতি হতে পারে, যা পুরো জুট শিল্পের আয় ও কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করবে। তাই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত কাজ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, সরকার পাটবীজের সংকট দূর করতে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করেছে এবং অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপগুলো বাজারের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে কৃষকদের আয় সুরক্ষিত করবে, পাট শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের রপ্তানি আয়কে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।



