অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ আজ একটি নোটিশ জারি করে জানিয়েছে যে, সঞ্চয় সনদের সুদের হার হ্রাসের পূর্বের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বর্তমান হার পরবর্তী ছয় মাসের জন্য অপরিবর্তিত থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে, জুলাই ১ থেকে ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ পর্যন্ত প্রযোজ্য হার ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত বজায় থাকবে।
গত বছর শেষের দিকে সরকার সঞ্চয় সনদের সব প্রকারের সুদের হার হ্রাসের ঘোষণা দেয়া হয়। ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে গেজেটের মাধ্যমে জানানো হয় যে, জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সুদের হার কমিয়ে নতুন হার নির্ধারিত হবে। এই ঘোষণার পর বাজারে মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগকারীর আস্থার ওপর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
বিনিয়োগকারীরা হ্রাসের খবরের পর সঞ্চয় সনদের চাহিদা হ্রাসের ইঙ্গিত পায়। বিশেষত, দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছোটো ও মাঝারি ব্যবসা ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়। তবে, সরকার দ্রুতই এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার সংকেত দেয়।
আজ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পূর্বে ঘোষিত হ্রাসের পরিবর্তে বর্তমান সুদের হারই বজায় থাকবে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থা আগামী ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে, ফলে বিনিয়োগকারীরা পূর্বের মতোই সুদ পেতে সক্ষম হবেন।
নতুন নোটিশে সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হবে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই ১ থেকে ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ পর্যন্ত প্রযোজ্য হারই ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত একই রকম থাকবে। ফলে, সঞ্চয় সনদের মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া গ্রাহকদের জন্য কোনো অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি হবে না।
সরকারের এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধারকে উল্লেখ করা হয়েছে। হ্রাসের ফলে সঞ্চয় পণ্যের ওপর চাহিদা কমে যাওয়া এবং বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা সরকার বিবেচনা করে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্লেষকরা জানান, বর্তমান সুদের হার বজায় রাখলে সঞ্চয় সনদের আকর্ষণীয়তা বজায় থাকবে এবং আর্থিক বাজারে তরলতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, এই পদক্ষেপটি মুদ্রা সঙ্কটের সময়ে জনসাধারণের সঞ্চয়কে উৎসাহিত করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের নোটিশে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ছয় মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সরকার আবার সুদের হার পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে, তবে তা বাজারের পরিস্থিতি ও আর্থিক নীতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবে। সঞ্চয় সনদের মাধ্যমে সংগ্রহিত তহবিলের ব্যবহার পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে এবং সরকারি প্রকল্পের জন্য তহবিলের প্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না।
সারসংক্ষেপে, সরকার সঞ্চয় সনদের সুদের হার হ্রাসের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে বর্তমান হারকে ছয় মাসের জন্য স্থায়ী করেছে। এই পদক্ষেপটি বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার, আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতা এবং সঞ্চয় পণ্যের আকর্ষণ বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আর্থিক নীতি ও বাজারের অবস্থা অনুযায়ী পুনরায় সমন্বয় করা হতে পারে।



