শশী থারুর বিশ্লেষণ সেশনে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, যদি বাংলাদেশের দ্রুতগতি শুটার মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবর্তে টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান লিটন দাশ বা সবদিকের খেলোয়াড় সৌম্য সরকারকে বোলিং দায়িত্বে রাখা হতো, তবে দলের গঠন ও ম্যাচের গতিপথে কী ধরনের পরিবর্তন আসত।
থারুর মন্তব্যের মূল বিষয় হল দুই খেলোয়াড়ের ভিন্ন দক্ষতা। মোস্তাফিজুর তার স্বল্প গতি, স্লাইডার এবং ডেথ ওভারে কাটার ক্ষমতার জন্য পরিচিত, যা টিমকে শেষ ওভারে রুন দমন করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে লিটন দাশ মূলত ওপেনিং ব্যাটসম্যান, যার প্রধান দায়িত্ব ব্যাটিংয়ে রুন সংগ্রহ করা, আর সৌম্য সরকার মাঝারি গতি ও স্পিনের মিশ্রণ দিয়ে অল-রাউন্ডার হিসেবে কাজ করেন।
থারু বলেন, লিটন দাশকে বোলার হিসেবে ব্যবহার করলে তার ব্যাটিং ফর্মে হ্রাস পেতে পারে, ফলে শীর্ষ ক্রমে রুন সংগ্রহের সম্ভাবনা কমে যাবে। একই সঙ্গে, লিটনের গতি ও লাইন-লেংথের অভাবের কারণে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্য স্কোরিং সহজ হতে পারে।
সৌম্য সরকারের ক্ষেত্রে, যদিও তিনি অল-রাউন্ডার হিসেবে কিছু ওভার নিতে পারেন, তবে তার গতি ও ভ্যারিয়েশন মোস্তাফিজুর তুলনায় কম তীব্র। থারু উল্লেখ করেন, যদি সৌম্যকে শেষ ওভারে দায়িত্ব দেওয়া হতো, তবে রুনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সীমিত প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে পিচে দ্রুত গতি না থাকলে।
দুই খেলোয়াড়ের পরিবর্তে মোস্তাফিজুর উপস্থিতি দলের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখে। তার ডেথ ওভারে স্লাইডার এবং কাটার ব্যবহার করে ব্যাটসম্যানদের আউট করার সম্ভাবনা বেশি, যা টিমের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। থারু এই দিকটি তুলে ধরে বলেন, মোস্তাফিজুর অভাব হলে দলকে অতিরিক্ত ফিল্ডিং পরিবর্তন ও ব্যাটিং লাইন-আপে সমন্বয় করতে হবে।
থারুর বিশ্লেষণে তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, লিটন ও সৌম্য উভয়েরই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবে তাদের মূল ভূমিকা ব্যাটিং ও অল-রাউন্ডার হিসেবে থাকে। তাই বোলিং দায়িত্বে তাদের ব্যবহার করলে দলের কৌশলিক দিক থেকে পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে।
এই মন্তব্যের পর, ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেন। তবে থারুর মূল বক্তব্য স্পষ্ট: মোস্তাফিজুর অনুপস্থিতিতে লিটন বা সৌম্যকে বোলার হিসেবে ব্যবহার করলে দলের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে, যা ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
শশী থারুর এই বিশ্লেষণ ভবিষ্যৎ সিরিজে দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ প্রদান করে। তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, দলকে প্রতিটি খেলোয়াড়ের শক্তি ও দুর্বলতা বিবেচনা করে সঠিক ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে, যাতে প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ সম্ভাবনা অর্জন করা যায়।
এই আলোচনার পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী সিরিজের পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের ভূমিকা নির্ধারণে এই ধরনের বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে ধারণা করা যায়। থারুর মন্তব্য দলীয় কৌশল গঠনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে।



