বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিএআরসি) আজ জানুয়ারি মাসের জন্য লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নতুন মূল্যের ঘোষণা করেছে। নতুন মূল্যের ভিত্তিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের বিক্রয়মূল্য ১,৩০৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বের দামের তুলনায় ৫৩ টাকার বৃদ্ধি।
বিএআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ অফিসে এই মূল্যসংশোধন সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, নতুন মূল্যসারণী আজ সন্ধ্যা ৬ টা থেকে কার্যকর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিবর্তনটি গ্যাস সরবরাহ শৃঙ্খলের সামগ্রিক ব্যয় কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক তেল মূল্যের ওঠানামা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে।
প্রতি কিলোগ্রাম এলপিজি এখন ১০৮.৮৩ টাকায় বিক্রি হবে। গৃহস্থালির ব্যবহার ছাড়াও, গাড়িতে গ্যাস চালনার (অটোগ্যাস) দামও সমন্বয় করা হয়েছে; প্রতি লিটারে ৫৯.৮০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই মূল্যসংশোধন গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
বাজারে গ্যাসের চাহিদা শীতকালীন মাসে বাড়ার প্রবণতা রয়েছে, ফলে সরবরাহকারী সংস্থাগুলি অতিরিক্ত মজুদ বজায় রাখতে ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের দামের ওপর প্রভাব ফেলে, যা আজকের মূল্যের বৃদ্ধিতে স্পষ্ট।
বিএআরসি কর্তৃক প্রকাশিত নতুন মূল্যসূচি দেশের গ্যাস বাজারে স্বচ্ছতা আনতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়। পূর্বে মূল্য পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশে দেরি হওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল; এখন সময়মত ঘোষণার মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
অটোগ্যাসের দামও সমন্বয় করা হয়েছে, যা গাড়ি চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস চালিত গাড়ির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, প্রতি লিটারে ৫৯.৮০ টাকা নতুন মূল্য গড়ে তুলবে, যা পূর্বের দামের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি। এই পরিবর্তন পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যয়ের সামগ্রিক হিসাবকে প্রভাবিত করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সরাসরি গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক খাতে উৎপাদন খরচ বাড়াবে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, হোটেল ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, ফলে তাদের লাভের মার্জিন সংকুচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে গ্যাসের বিকল্প জ্বালানি, যেমন ইলেকট্রিক হিটার ও সোলার প্যানেল, ব্যবহার বাড়তে পারে। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস শিল্পের চাহিদা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, যা সরবরাহকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা হবে।
বিএআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ উল্লেখ করেন, গ্যাসের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক তেল বাজারের দামের পাশাপাশি দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যয় এবং ভোক্তাদের ক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হলে তা সময়মতো জানানো হবে।
এই মূল্যসংশোধনের ফলে গ্যাস বিক্রেতা ও রিটেইলারদের জন্য নতুন মূল্য তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। রিটেইল স্তরে দাম বাড়ার ফলে বিক্রয় পরিমাণে সাময়িক হ্রাস দেখা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের চাহিদা মৌসুমীভাবে বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বাজারে ইতিমধ্যে কিছু রিটেইলারের কাছ থেকে নতুন দামের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। গ্রাহকরা গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় নতুন মূল্যের পার্থক্য লক্ষ্য করছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জের অভিযোগও উঠছে। তবে কমিশনের ঘোষণার পর এই বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে যে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত করা হোক। এই অনুরোধের পেছনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ ও ভৌগোলিক সুবিধা বিবেচনা করা হয়েছে।
বিসিবি কর্তৃক করা এই আবেদনটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সময়সূচি ও ভৌগোলিক বিতরণে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে আইসিসি এখনও এই অনুরোধের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
গ্যাসের দামের পরিবর্তন ও ক্রিকেটের ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ দুটোই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে প্রভাব ফেলবে। গ্যাসের দাম বাড়লে গৃহস্থালি ব্যয় বাড়বে, আর ক্রিকেটের ম্যাচ স্থানান্তর হলে পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসায়িক সুযোগ বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, বিএআরসি আজকের ঘোষণার মাধ্যমে গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩০৬ টাকা এবং অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে ৫৯.৮০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই পরিবর্তনটি ৬ টা থেকে কার্যকর হবে এবং গ্যাস বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, বিসিবি আইসিসিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডারে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



