কুরিগ্রাম-৩ (উলিপুর) নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার ও ডেপুটি কমিশনার অন্নপূর্ণা দেবনাথ আজ দু’জন জামায়াত-ইসলামী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। মহবুবুল আলম সেলেহি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত প্রমাণ না দেখাতে পারায় তার আবেদন অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
অন্নপূর্ণা দেবনাথ উল্লেখ করেন, প্রার্থী ইমেইল কপি ও পেমেন্ট রসিদ জমা দিয়েছেন, তবে যুক্তরাজ্যের দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নাগরিকত্ব রদের চূড়ান্ত নথি পাওয়া যায়নি। এই ঘাটতি সংবিধানের ধারা ৬৬(২)(সি) অনুযায়ী বাতিলের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
বাতিলের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত কর্মীরা জেলা প্রশাসন অফিসে প্রতিবাদ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সংযোজন করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মহবুবুল আলম সেলেহি বলেন, তিনি প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন, তবু তা উপস্থাপনের সুযোগ পাননি। তিনি সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতপূর্ণ ও ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বলে উল্লেখ করে, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৯ (কোতয়ালী) নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং অফিসার ও ডিভিশনাল কমিশনার জিয়া উদ্দিন ডক্টর এ.কে.এম. ফজলুল হককে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। ফজলুল হক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ধারণ করেন এবং তিনি তা ত্যাগের দাবি করেছেন।
চট্টগ্রাম ডিভিশনাল কমিশনারের অফিসের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, ফজলুল হক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রদের আবেদন করেছেন বলে দাবি করেন, তবে তা প্রমাণকারী সম্পূর্ণ নথি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ফজলুল হক একটি শপথপত্রে জানিয়েছেন, তিনি ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি বা নথিপত্র নির্বাচন অফিসে সরবরাহ করা হয়নি।
দু’টি মামলায় উভয় প্রার্থীরই নাগরিকত্ব রদের চূড়ান্ত প্রমাণের অভাবই বাতিলের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নির্বাচন আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রার্থীর ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন সম্ভব নয়।
এই সিদ্ধান্তের পর উভয় নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। জামায়াত কর্মীরা ন্যায়বিচার দাবি করে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে, আর প্রশাসন আইনগত প্রক্রিয়া মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।
জাতীয় দলের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতীয় ম্যাচগুলোকে আইসিসি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই দাবি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনী কমিশনের পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় প্রার্থী আপিলের পথে অগ্রসর হতে পারেন। আদালতে নাগরিকত্ব রদের নথিপত্রের বৈধতা ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশেষে, এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিধানের কঠোর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে প্রার্থীদের নাগরিকত্ব রদের প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা নিশ্চিত করা হবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা বজায় থাকে।



