গুলশান অ্যাভিনিউ ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে দুইজনের গ্রেফতার হয়; গ্রেফতারের পর একের দেহে গাঁজার প্যাকেট পাওয়া যায়। গ্রেফতারের মধ্যে ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত, যাকে আটক করার পর পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে গাঁজা পায় বলে পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন।
একই সময়ে, ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনের পর তারেক রহমান গুলশান অ্যাভিনিউ ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ফিরে আসেন। তারেকের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানও দেশে প্রবেশ করেন। বাড়িটি তারেকের বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে পাওয়া যায়। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যু পর, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতভাবে খালেদা জিয়াকে এই সম্পত্তি বরাদ্দ করে। কয়েক মাস আগে বাড়ির দলিল হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার পর তা বসবাসের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
বাড়ির পাশে অবস্থিত বাড়িতে তখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বসবাস করতেন। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করার পর, তার পরিবার ১৯৬ নম্বর বাড়ি থেকে শেষ বিদায়ের আয়োজন করে। শেষকৃত্য বাড়ি থেকে বের করে গৃহস্থালির সদস্যদের দ্বারা গাড়িতে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের মতে, ওমর ফারুকের গ্রেফতার গুলশান এলাকায় বাড়ির আশেপাশে গাঁজা চোরাচালান সন্দেহের ভিত্তিতে করা হয়। তল্লাশির সময় গাঁজার প্যাকেট পাওয়া গিয়ে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় কোনো সহিংসতা বা অশান্তি ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, গুলশান এলাকায় এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য এবং তার বাড়ি থেকে শেষ বিদায়ের আয়োজনের পরপরই এই গ্রেফতার ঘটেছে, যা কিছু লোকের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে, বর্তমান পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার সরাসরি জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গুলশান এলাকায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার কথা জানিয়েছে। বাড়ির মালিকানার ইতিহাস ও রাজনৈতিক সংযোগের কারণে, স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে তদারকি বাড়াবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই ঘটনার পর, গুলশান এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির নিরাপত্তা ও মাদক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, খালেদা জিয়ার পরিবারও শেষকৃত্য আয়োজনের পর শান্তি ও শোকের সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। গুলশান এলাকায় এই ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগিয়ে যাবে, তা সময়ের সাথে প্রকাশ পাবে।



