বিমান বাংলাদেশ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা‑ম্যানচেস্টার‑ঢাকা রুটের নিয়মিত ফ্লাইটগুলো অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সিদ্ধান্তে বিমানসংখ্যার ঘাটতি, হজ অপারেশন, বিদ্যমান জাহাজের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং নেটওয়ার্কের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমান সংস্থা জানিয়েছে, এই রুটে বুকিং করা যাত্রীদের জন্য বিদ্যমান নীতিমালা অনুসারে সহায়তা প্রদান করা হবে। পরিবর্তন হিসেবে ঢাকা‑লন্ডন‑ঢাকা রুটের তারিখ পরিবর্তন বা টিকিট রিফান্ডের ব্যবস্থা করা হবে এবং পুনরায় চালু হলে যাত্রীদের জানানো হবে।
২০২১ সাল থেকে বিমান বাংলাদেশ সপ্তাহে দু’বার এই রুটে সেবা প্রদান করে আসছে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টরে বসবাসকারী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বন্ধের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে।
স্থানীয় বাংলাদেশি সমাজের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, ম্যানচেস্টার‑সিলেট রুটের চাহিদা ও লাভজনকতা ধারাবাহিকভাবে উচ্চ ছিল। তবুও অতীতে এই রুটে একাধিকবার বন্ধের ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করেছে।
ব্রিটেনের আরেকজন বাংলাদেশি বাসিন্দা বলেন, বর্তমান সময়ে রুটটি আর্থিকভাবে টেকসই এবং টিকিটের দামও প্রতিযোগিতামূলক। সরাসরি সিলেট সংযোগের ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের জন্য এই বন্ধটি বড় উদ্বেগের কারণ।
বিমান বাংলাদেশ ৭৩ দিনের বন্ধের পর জুলাই ২০২৫-এ সিলেট‑ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালু করেছিল। একই বছর মে ১ থেকে জুলাই ১০ পর্যন্ত হজ ফ্লাইটের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এই রুটের সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
ঢাকা‑ম্যানচেস্টার রুটে একমাত্র সেবা প্রদানকারী হিসেবে বিমান বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবাহিনীর আয় ও বাজার শেয়ারকে প্রভাবিত করতে পারে। রুট বন্ধের ফলে বিদেশে বসবাসকারী ব্যবসায়িক ও পর্যটন গোষ্ঠীর ভ্রমণ চাহিদা অন্য এয়ারলাইনগুলোর দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, স্বল্পমেয়াদে বিমান সংস্থার ফ্লিট ব্যবহারের দক্ষতা বাড়বে, তবে দীর্ঘমেয়াদে রুটের পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত আয় হ্রাসের ঝুঁকি থাকবে। হজ মৌসুমের জন্য জাহাজের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে অন্যান্য বাণিজ্যিক রুটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বিমান সংস্থার আর্থিক প্রতিবেদনে রুট বন্ধের ফলে প্রত্যাশিত আয় হ্রাস এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের বৃদ্ধি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হজ ফ্লাইটের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা এবং জাহাজের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করা ভবিষ্যতে ফ্লিটের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা উন্নত করতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ ভবিষ্যতে রুট পুনরায় চালু করার সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্টতা না দিয়ে যাত্রীদের ধৈর্য্য বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে। রুটের পুনরায় সূচনা হলে টিকিটের দাম, ফ্লিটের প্রাপ্যতা এবং সংযোগের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে সংস্থা জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা‑ম্যানচেস্টার রুটের অস্থায়ী বন্ধ বিমান সংস্থার অপারেশনাল কৌশল, হজ ফ্লাইটের অগ্রাধিকার এবং রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনার সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে। এই সিদ্ধান্তের ব্যবসায়িক প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে।



