ঝালকাঠি জেলার প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে বুধবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ সকাল সাড়ে নয়টায় বিনামূল্যে বই ও শীতের পোশাক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে এবং তাদের পরিচালিত বিদ্যালয়ের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং বিতরণ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা এই ধরনের সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে মনোযোগ দিচ্ছে। সংস্থার প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, বই এবং শীতবস্ত্রের অভাব শিক্ষার ধারাবাহিকতাকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এই উদ্যোগটি সময়োপযোগী। সংস্থা ও বিদ্যালয়ের সমন্বয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে সব শিক্ষার্থী সমানভাবে উপকৃত হয়।
বিকেল ৯:৩০ টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়, প্রথমে জেলা প্রশাসকের স্বাগত বক্তব্য শোনা যায়। এরপর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী ভাষণ দেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার কথা বলা হয়। তারপরে বই ও শীতবস্ত্রের প্যাকেজগুলো প্রস্তুত করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
বিতরণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে উপহার গ্রহণ করে। কিছু শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, আবার অন্যরা শীতের জন্য নতুন জ্যাকেট ও টুপি পেয়ে উষ্ণতা অনুভব করে। শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ে, যা এই উদ্যোগের সাফল্যকে স্পষ্ট করে।
বক্তারা উল্লেখ করেন যে, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা উন্নয়নে সামাজিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তারা জোর দিয়ে বলেন যে, সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে পারে। এই ধরনের সমর্থন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করে।
বিতরণ শেষে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই ও শীতবস্ত্রের বণ্টন সমানভাবে সম্পন্ন হয়। মোট কতজন শিক্ষার্থীকে এই সুবিধা প্রদান করা হয়েছে তা সংস্থার রেকর্ডে উল্লেখ আছে, তবে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। বিতরণ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, যাতে প্রত্যেকের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়।
ঝালকাঠির এই উদ্যোগটি স্থানীয় সমাজে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে তুলেছে। পরিবারগুলোও এই সহায়তাকে স্বাগত জানায় এবং ভবিষ্যতে আরও সমর্থনের আশা প্রকাশ করে। এমন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে সমতা অর্জনের জন্য এই ধরনের উদ্যোগের পুনরাবৃত্তি জরুরি। পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করা যায় যে, সন্তানদের শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এছাড়া, শীতের কঠিন সময়ে অতিরিক্ত গরম পোশাকের ব্যবস্থা করা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
আপনার আশেপাশের কোনো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী যদি সহায়তার প্রয়োজন হয়, তবে স্থানীয় শিক্ষা দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এই ধরনের উদ্যোগে অংশগ্রহণ করে আপনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।



