সরকারি অর্থ বিভাগ ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) অনুরোধ জানায়, যাতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার হ্রাসের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পূর্বের হার পুনরায় কার্যকর করা হয়। ফলে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত নির্ধারিত হারই বিনিয়োগকারীরা পরবর্তী ছয় মাসের জন্য পাবেন। পূর্বে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের হার কমানো হয়েছিল, যা এখন বাতিল করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থেকে রেহাই পাবেন, কারণ হ্রাসকৃত হার তাদের রিটার্নকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিত। সরকার নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করে, যা দেশের সঞ্চয় সংস্কৃতি ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৭.৫০ লক্ষ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১১.৯৩ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে, আর একই সীমা অতিক্রম করলে হার ১১.৮০ শতাংশে থাকবে। পেনশন সঞ্চয়পত্রে ৭.৫০ লক্ষ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা ১১.৯৮ শতাংশ, আর বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ নির্ধারিত। উভয় পণ্যের হার পূর্বের মতোই বজায় থাকবে।
পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ৭.৫০ লক্ষ টাকার নিচে বিনিয়োগের রিটার্ন ১১.৮৩ শতাংশ, আর বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ নির্ধারিত। একইভাবে, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ৭.৫০ লক্ষ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা ১১.৮২ শতাংশ, আর বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ থাকবে। এই হারগুলোও পূর্বের মতোই রয়ে যাবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্তের অর্থ হল, স্বল্প ও মধ্যম পরিসরের সঞ্চয়পত্রে রিটার্নের পার্থক্য কমে যাবে, ফলে উচ্চ পরিমাণের সঞ্চয়েও অতিরিক্ত হ্রাসের ঝুঁকি কমে। তবে উচ্চ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার এখনও তুলনামূলকভাবে কম, যা দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়কে প্রণোদনা দিতে পারে না।
বাজারে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে, কারণ এটি সঞ্চয়পত্রের আকর্ষণ বজায় রাখবে এবং নতুন বিনিয়োগের প্রবাহকে উৎসাহিত করবে। বিশেষত, পরিবার সঞ্চয়পত্রের ১১.৯৩ শতাংশের হার মধ্যবিত্ত গোষ্ঠীর জন্য তুলনামূলকভাবে উচ্চ রিটার্ন প্রদান করে, যা ব্যাংক ঋণের চাহিদা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, সঞ্চয়পত্রের স্থিতিশীল হার সরকারকে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে, বিশেষত যখন আন্তর্জাতিক সুদের হার ওঠানামা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মুনাফার হার যদি অতিরিক্ত উচ্চ থাকে, তা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার হ্রাসের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং পূর্বের হার বজায় রাখা বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার করবে, সঞ্চয় সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করবে এবং আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। সরকারকে এখন এই হারগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে, ভবিষ্যতে মুদ্রা ও সুদের নীতি সমন্বয় করতে হবে, যাতে সঞ্চয় ও ঋণ উভয় ক্ষেত্রেই সমতা রক্ষা পায়।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা হিসেবে, সঞ্চয়পত্রের হার যদি দীর্ঘমেয়াদে অপরিবর্তিত থাকে, তবে বিনিয়োগকারীরা উচ্চ রিটার্নের জন্য বিকল্প সম্পদে ঝুঁকি নিতে পারে। তাই সরকারকে নিয়মিতভাবে হার পর্যালোচনা করে, বাজারের চাহিদা ও মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতি অনুযায়ী সমন্বয় করা জরুরি। এই নীতি ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে সঞ্চয়পত্রের জনপ্রিয়তা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।



