চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিটে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময় ৬০ বছর বয়সী ইব্রাহীম খলিলের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া ঘটেছে। তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে নাশিতা তাসনিম, যিনি বাবার সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিতে শহরের বাইরে থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।
নাশিতা পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের পরই বাবার শারীরিক অবস্থায় পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। সকালেই তিনি হাসিখুশি ছিলেন, তবে কিছুক্ষণ পরই ইব্রাহীমের বুকে ব্যথা অনুভব হয় এবং তিনি বিশ্রাম নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র হলের দিকে যান।
হলে পৌঁছানোর পর ইব্রাহীমের মুখে ফেনা দেখা যায় এবং শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। তিনি শোবার ব্যবস্থা চেয়ে রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিতে চান, তবে শোয়ার পর হঠাৎ তার মুখে আবার ফেনা উঠে আসে এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
ইব্রাহীমের সঙ্গে ছিলেন জসিম মিয়া, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র, যিনি ঘটনাটি প্রথম লক্ষ্য করেন। জসিম এবং তার রুমমেট দ্রুত ইব্রাহীমকে শোয়ার ব্যবস্থা করেন এবং অচেতন অবস্থায় তাকে তাড়া করে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল করেন।
অ্যাম্বুলেন্সের সিগন্যাল শোনা মাত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছায়। ইব্রাহীমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নাশিতার বড় বোন নাফিসা তাসমিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী, বাবার মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, পরীক্ষার সকালেই বাবার স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা ছিল না এবং তারা একসাথে গাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।
নাফিসা বাবার অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে জানেন, ইব্রাহীমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, বাবার শেষ মুহূর্তে তিনি মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন, তবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন। বেশিরভাগই জানায়, ইব্রাহীমের হঠাৎ অসুস্থতা এবং তার পরবর্তী মৃত্যু তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত শক হিসেবে রয়ে গেছে।
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জরুরি চিকিৎসা সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে। পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপস্থিতি এবং জরুরি সেবার দ্রুত প্রবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত সাহায্য চাওয়া যায়, তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। ক্যাম্পাসে প্রথম সাহায্য কিটের অবস্থান, জরুরি নম্বর এবং নিকটস্থ হাসপাতালের তথ্য সবসময় আপডেট রাখা উচিত।
অবশেষে, ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে স্বাস্থ্যগত সতর্কতা অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘ যাত্রা বা শারীরিক ক্লান্তি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া উচিত।
আপনার ক্যাম্পাসে জরুরি সেবা ব্যবস্থার প্রস্তুতি কেমন? আপনি কি জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাহায্য পেতে জানেন? এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন।



