19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতুচ্ছ অজুহাতে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল উদ্বেগ প্রকাশ

তুচ্ছ অজুহাতে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল উদ্বেগ প্রকাশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে বহু যোগ্য প্রার্থীর আবেদন বাতিলের অভিযোগ জামায়াতে ইসলামী থেকে উঠে এসেছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার (৪ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, কিছু জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অল্প কিছু অযৌক্তিক কারণের ভিত্তিতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

পরওয়ার জানান, মনোনয়ন দাখিলের পর বিভিন্ন জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাজের পদ্ধতিতে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে, যেখানে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বিবেচনায় কিছু শর্তে ছাড় দেওয়া সম্ভব, সেখানে কঠোর নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এমন কিছু ক্ষেত্রে আইনগত দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ না এমন বিষয় তুলে ধরা হয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে, যদিও প্রার্থীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি সরবরাহ করা হয়েছে।

দলটির শীর্ষনেতা উল্লেখ করেন, এধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে নির্বাচনের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হবে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান, যেসব প্রার্থীর আবেদন তুচ্ছ অজুহাতে বাতিল হয়েছে, তাদের আবেদন পুনর্বিবেচনা করে বৈধভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে তিনি সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনের মাঠ সমতল করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই অভিযোগের পটভূমিতে রয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা, যাঁরা মনোনয়নপত্রের যাচাই-নিরীক্ষা ও প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। জামায়াতে ইসলামী দাবি করে, কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত মতামত বা স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন, যা প্রার্থীর অধিকারকে হরণ করে। অন্যদিকে, কিছু জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তারা আইনগত দৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়কে ভিত্তি করে আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন, যদিও প্রার্থীর দাখিলকৃত নথিপত্র যথাযথ।

পরওয়ারের মতে, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার এই অনিয়মের ফলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি প্রার্থীর আবেদন অনধিকৃতভাবে বাতিল হয়, তবে তা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার সমতা নষ্ট করে এবং নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে অপ্রয়োজনীয় সুবিধা তৈরি করে। ফলে, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা সম্ভব।

দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করে, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করে দ্রুত বৈধতা প্রদান করা হোক। এছাড়া, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাজের মানদণ্ড স্পষ্ট করে, সকল জেলা ও থানা পর্যায়ে সমানভাবে প্রয়োগ করা নিশ্চিত করা দরকার। জামায়াতে ইসলামী জোর দিয়ে বলছে, নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের সমস্যার সমাধান না হলে, ভোটারদের আস্থা হারিয়ে যাবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এই অভিযোগের পর, নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো মন্তব্য বা পদক্ষেপের তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে, নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া যায়।

দলটির এই দাবি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে, যেখানে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কাজের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করা হবে। যদি নির্বাচন কমিশন এই উদ্বেগের যথাযথ সমাধান না করে, তবে নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে আইনি চ্যালেঞ্জ বা রাজনৈতিক বিরোধের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, জামায়াতে ইসলামী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাজের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তুচ্ছ অজুহাতে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ তুলে, নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। এই বিষয়টি নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments