বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ সালে জাতীয় যন্ত্রপাতি পরিচয় নিবন্ধন (NEIR) চালু করে, যা মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহার রোধ ও বাজারের বিশৃঙ্খলা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত হয়েছে।
NEIR মূলত একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস, যেখানে প্রতিটি মোবাইল ডিভাইসের ১৫ অঙ্কের IMEI নম্বরকে তার সিম কার্ডের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
প্রতিটি সিম কার্ডের নিজস্ব ইউনিক আইডি থাকে, আর ফোন নম্বরটি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই তিনটি উপাদান একত্রে ডেটাবেসে সংরক্ষিত হয়।
ডিভাইস নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হলে, তার IMEI ও সিমের আইডি NEIR-এ যাচাই করা হয়; যদি কোনো অবৈধ বা চুরি হওয়া ডিভাইস শনাক্ত হয়, তবে তা নেটওয়ার্কে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা যায়।
এই প্রক্রিয়া চুরি হওয়া ফোনকে পুরো দেশে ব্লক করার সুযোগ দেয়, ফলে ব্যবহারকারীকে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
অবৈধভাবে আনা নকল বা গুদামজাত হ্যান্ডসেটগুলোও একই সিস্টেমের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে প্রবেশ থেকে বাধা পায়, যা বাজারে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে।
ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ডিভাইস নিশ্চিত হওয়ায়, সরকার এই উদ্যোগকে মোবাইল শিল্পের দীর্ঘস্থায়ী লুকোচুরি বন্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তবে, ডিভাইস, সিম ও ফোন নম্বরের স্থায়ী সংযোগ একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করে, যা গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগ উত্থাপন করে।
NEIR কোনো কল শোনে না, না কোনো বার্তা পড়ে; তাই এটি প্রচলিত নজরদারি সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করে না।
কিন্তু সরকার এই ডেটা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে কোন ডিভাইস কোন সিমের সঙ্গে নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে তা জানার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রাখে।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, NEIR সম্পূর্ণভাবে একটি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, নজরদারি টুল নয়; এর মূল উদ্দেশ্য হল অবৈধ ডিভাইসের প্রবেশ রোধ এবং ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
এদিকে, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলো এই সিস্টেমকে সম্ভাব্য নজরদারি সরঞ্জাম হিসেবে বিশ্লেষণ করে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষ করে, ডেটা কীভাবে সংরক্ষণ, কীভাবে ব্যবহার এবং কীভাবে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগ করা হবে তা নিয়ে স্পষ্ট নীতি না থাকলে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ে।
NEIR বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, ডেটা শুধুমাত্র আইনসঙ্গত উদ্দেশ্যে এবং যথাযথ অনুমোদন পেলে ব্যবহার করা হবে।
এই নীতি অনুসারে, ডিভাইস ব্লক করা, চুরি রিপোর্ট করা এবং নকল পণ্য শনাক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় নজরদারি কার্যক্রম চালু করা হবে না।
তবু, সিস্টেমের স্বচ্ছতা ও তদারকি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকলে জনগণের মধ্যে সন্দেহ বাড়তে পারে।
ভবিষ্যতে NEIR কীভাবে উন্নত হবে, কোন অতিরিক্ত ফিচার যুক্ত হবে এবং গোপনীয়তা সুরক্ষার জন্য কী ধরনের আইনি কাঠামো গড়ে উঠবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে NEIR মোবাইল বাজারের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে; অন্যদিকে, অনিয়মিত ব্যবহার গোপনীয়তা লঙ্ঘনের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
এই প্রযুক্তি কীভাবে দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে সরকারের নীতি, প্রযুক্তি সংস্থার দায়িত্বশীলতা এবং নাগরিকদের সচেতনতার ওপর।



