লেবার পার্টির নেতা স্যার কীর্স স্টারমার ২০২৭ সালের মধ্যে পার্লামেন্টের আসনে থাকবেন বলে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেছেন। তিনি সাক্ষাৎকারে হালকা মেজাজে বললেন, যদি কথোপকথন ভালো যায় তবে আগামী বছর ডাউনিং স্ট্রিটে আবার আমন্ত্রণ জানাবেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রতি সন্দেহ প্রকাশকারী কিছু সহকর্মীর উপস্থিতি উল্লেখ করেছেন।
সাক্ষাৎকারের ঠিক আগে স্টারমার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন এবং ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ঘটনার বিশ্লেষণ করছিলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সাক্ষাৎকার শেষের দিকে নিউ ইয়র্কে মাদুরোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির তীব্রতা তুলে ধরেছে।
বছরের শেষের দিকে স্টারমার পারিবারিক ছুটিতে চেকার্সে কাটিয়েছেন, যা তাকে মানসিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করেছে বলে মনে হয়। ২০২৫ সালের শেষের দিকে তার মনোভাব নিঃসন্দেহে নীরস ও ক্লান্তিকর ছিল, তবে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি পুনরায় উদ্যমী হয়ে উঠেছেন। এই পুনর্জাগরণ তাকে পার্টির অভ্যন্তরে থাকা সমালোচকদের মুখোমুখি হতে সাহসিকতা দিয়েছে।
লেবার পার্টির কিছু উচ্চপদস্থ সদস্য স্টারমারকে এই বছরই পদত্যাগের দিকে ধাবিত করার পরিকল্পনা করছেন। তারা বিশ্বাস করেন, বর্তমান নেতৃত্ব পার্টির এবং দেশের জন্য যথাযথ নয় এবং নতুন মুখের প্রয়োজন। তবে স্টারমার এই ধারণাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে, তিনি বললেন যে তার পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ তাকে সরাতে পারবে না। তিনি যুক্তি দেন, নিগেল ফারাজ এবং রিফর্ম ইউকে-কে নং ১০-এ পৌঁছাতে বাধা দিতে হলে নেতৃত্ব পরিবর্তনই একমাত্র উপায় হতে পারে, তবু তিনি নিজে সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।
স্টারমার উল্লেখ করেন, “এটি আমাদের সময়ের সংগ্রাম এবং আমি নেতৃত্ব চালিয়ে যাব।” তিনি এই কথায় পার্টির অভ্যন্তরে চলমান বিতর্ককে সরাসরি মোকাবেলা করেছেন। যদিও তিনি ভবিষ্যৎ সাধারণ নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত দেন, তবু তিনি স্বীকার করেন যে মে মাসে অনুষ্ঠিত বৃহৎ নির্বাচনের মাধ্যমে তার পারফরম্যান্সের প্রাথমিক মূল্যায়ন হবে। এই নির্বাচনে স্থানীয় কাউন্সিল, স্কটল্যান্ডের হোলিরুড এবং ওয়েলসের কার্ডিফের সরকার গঠন হবে, যা সরাসরি লন্ডনের সরকারকে প্রভাবিত করবে।
স্টারমার এই নির্বাচনের গুরুত্বকে জোর দিয়ে বলেন, যদিও তিনি দাবি করেন যে এই ভোটগুলো মূলত স্থানীয় শাসন ও স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে, তবু নং ১০-ও এই ফলাফলের দ্বারা প্রভাবিত হবে। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে পার্টির অভ্যন্তরে থাকা বিরোধী শক্তিগুলোর কণ্ঠস্বরকে কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রতি সন্দেহের মূল কারণগুলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং নীতি বাস্তবায়নের ধীরগতি। কিছু সদস্যের মতে, স্টারমারের নেতৃত্বে পার্টি ভোট হারাচ্ছে এবং নিকেল ফারাজের মত বিরোধী দলগুলোকে শক্তি দিচ্ছে। অন্যদিকে, স্টারমার তার নীতি ও পরিকল্পনাকে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সামগ্রিকভাবে, স্টারমার তার নেতৃত্বের স্থায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যদিও পার্টির অভ্যন্তরে কিছু শক্তি তাকে বাদ দিতে চায়। মে মাসের স্থানীয় ও devolved নির্বাচনের ফলাফল তার পারফরম্যান্সের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে, যা লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্টারমার এই চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে, পার্টি ও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তার ভূমিকা কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



