22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগত সপ্তাহে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করা পাঁচটি প্রধান ঘটনা

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করা পাঁচটি প্রধান ঘটনা

গত সপ্তাহে দেশের ব্যবসা‑বাজারে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো বাণিজ্যিক সংঘাত, পরিবেশগত দায়িত্ব, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার, ভবিষ্যৎ মুদ্রা‑বাজারের প্রত্যাশা এবং রেমিট্যান্সের রেকর্ড প্রবাহকে কেন্দ্র করে। এসব ঘটনার প্রভাব শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা, বিনিয়োগের পরিবেশ, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা প্রবাহে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।

স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো জানিয়েছে যে ভারত থেকে সূতোর আমদানি গত বছর তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা দাবি করে যে এই তীব্র বৃদ্ধির পেছনে দাম কমিয়ে বিক্রি করা ‘ডাম্পিং’ কৌশল রয়েছে, যা দেশীয় উৎপাদনকারীদের মূল্য হ্রাসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

শিল্প সমিতি সতর্ক করেছে যে অব্যাহতভাবে এই প্রবাহ চালিয়ে গেলে উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহার কমে যাবে, কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে এবং নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যাবে। তারা সরকারকে স্থানীয় উৎপাদন রক্ষার জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান টেলিকম কোম্পানিগুলো সম্প্রতি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ার ফলে কার্বন নির্গমনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রিপোর্ট করেছে। এই বৃদ্ধি দেশের জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার ও নির্গমন প্রকাশে স্বচ্ছতার ঘাটতি নির্দেশ করে।

পরিবেশ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে স্পষ্ট নীতি ও প্রণোদনা প্রদান করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ডিজিটাল সেক্টরের দ্রুত বৃদ্ধিকে জাতীয় পরিবেশগত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করা যায়। এ ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়া হলে টেলিকম শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

খালেদা জিয়ার শাসনকালে অর্থনৈতিক নীতি প্রধানত প্রযুক্তিবিদদের হাতে অর্পণ করা হয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি বাজেট শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, তবে বেসরকারি খাতের আত্মবিশ্বাস ও কাঠামোগত সংস্কারের গতি নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঐ সময়ের নীতি কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তবে একই সঙ্গে বিনিয়োগের পরিবেশে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। ফলে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়নে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমন্বিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা ২০২৬ সালে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তারা জোর দিয়েছেন যে বাজেট ঘাটতি কমানো, ব্যাংকিং সেক্টরে সংস্কার এবং বিনিয়োগের মনোভাব উন্নত করা ছাড়া স্থিতিশীল বৃদ্ধি অর্জন কঠিন।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল করা এবং আর্থিক বাজারের স্বচ্ছতা বাড়ানোকে মূল শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং উৎপাদন খাতে ইতিবাচক সঙ্কেত দেখা যাবে।

গত সপ্তাহে রেমিট্যান্স প্রবাহে রেকর্ড স্তরের বৃদ্ধি ঘটেছে, যা বিদেশে কাজ করা বাংলাদেশিদের আয় বাড়িয়ে দেশের মুদ্রা সঞ্চয়ে অবদান রাখছে। এই প্রবাহের ধারাবাহিকতা বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

তবে রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মুদ্রা নীতি ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়। তাই সরকারকে রেমিট্যান্সের ব্যবহারকে উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তর করার নীতি প্রণয়ন করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে, স্পিনিং শিল্পের রপ্তানি চ্যালেঞ্জ, টেলিকম সেক্টরের পরিবেশগত দায়িত্ব, অতীতের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক নীতি, ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রত্যাশা এবং রেমিট্যান্সের রেকর্ড প্রবাহ—all together shape the current business climate and set the direction for future policy and market decisions in Bangladesh.

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments