গাজীপুরের কাশিমপুর সেন্ট্রাল জেল‑২‑এ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শহিদুল ইসলাম শিপু, যিনি ২০০৪ সাল থেকে শ্রমিক নেতা ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য আহসানুল্লাহ মাস্টারের হত্যাকাণ্ডের দায়ে কারাবন্দি, আজ ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের সকাল প্রায় ১১ টার দিকে শাহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (STMCH)‑এ চিকিৎসকের ঘোষণায় মৃত্যুবরণ করেন।
শহিদুলের স্বাস্থ্যের অবনতি সকাল ১০:৩০ টায় জেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে লক্ষ্য করা যায়। অবিলম্বে তাকে জেল হাসপাতালের সাপোর্টে স্থিতিশীল করা হয় এবং পরে জরুরি সেবা গাড়িতে নিকটস্থ শাহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়; ডিউটি ডাক্তারের মতে ১১:১৫ টায় তিনি নিঃশ্বাস বন্ধ করেন এবং মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
কাশিমপুর জেল‑২‑এর সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট আল মামুন জানান, শহিদুল অসুস্থ হওয়ার মুহূর্তে জেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করে, যার মধ্যে জরুরি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, শর্করা পর্যবেক্ষণ এবং হৃদরোগের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে রোগের তীব্রতা ও পূর্ববর্তী শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শহিদুল দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগে ভুগে আসছেন। তার চিকিৎসা রেকর্ডে নিয়মিত রক্তচাপের ওষুধ, ইনসুলিন এবং হৃদযন্ত্রের জন্য বেটা‑ব্লকারের ব্যবহার উল্লেখ আছে। অতিরিক্তভাবে, কয়েক বছর আগে একটি শল্যচিকিৎসার পর তার বাম পা কাটা হয়েছিল, যা তার চলাচল ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছিল।
জেল রেকর্ডে উল্লেখ আছে, শহিদুলের দেহের পোস্ট‑মর্টেম এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে। জেলারের আবুল হোসেন জানান, মৃতদেহের হস্তান্তর আইনগত বিধান অনুসারে যথাসময়ে করা হবে এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমর্থন প্রদান করা হবে।
শহিদুল গাজীপুরের টঙ্গির গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি মোঃ রফিকের পুত্র। ২০০৪ সালে আহসানুল্লাহ মাস্টারের হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর জেলে বন্দি ছিলেন এবং ২০০৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কারাবন্দি ছিলেন। মামলাটি তখন থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে আপিলের মুখে ছিল, যার মধ্যে উচ্চ আদালতে রিভিউ ও সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা অন্তর্ভুক্ত।
শহিদুলের মৃত্যুর ফলে তার মৃত্যুদণ্ডের আপিল প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাপ্ত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে মামলার মূল বিষয়—আহসানুল্লাহ মাস্টারের হত্যার দায়িত্ব—এখনো সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, এবং শহিদুলের মৃত্যুর পরেও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলাটি চলবে। আদালত এখনো শিকারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় রায় প্রদান করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
অধিকাংশ আইনি বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দোষীকে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না হলেও, তার মৃত্যুর ফলে শিকারের পরিবার ও সমাজে কিছুটা শোকের ছাপ থাকবে। জেল কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে জেলে দীর্ঘমেয়াদী রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জরুরি সেবা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের মানদণ্ড বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়বে। এই ঘটনা জেল ব্যবস্থাপনা ও বন্দীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানাচ্ছে।



