টেলিভিশনের জনপ্রিয় দম্পতি জয় ভানুশালি এবং মাহি বিজ, ১৪ বছর বিবাহের পর আলাদা হয়ে জীবনযাত্রা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। এই তথ্যটি জয়ের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতির মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে পৌঁছেছে।
বিবৃতিতে জয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দুজনেই এখন থেকে পৃথক পথে চলবেন, তবে সন্তানদের যত্ন ও দায়িত্বে একসাথে কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিচ্ছেদের পরেও সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব ভাগাভাগি করার প্রতিশ্রুতি জোর দিয়ে জয় বলেছেন, “সন্তানরা আমাদের অগ্রাধিকার, তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে আমরা দুজনই একসাথে কাজ করব।” এভাবে তিনি পিতামাতার ভূমিকা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জয় ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনের সময় সকলের কাছ থেকে গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধও জানিয়েছেন। তিনি মিডিয়া ও দর্শকদের কাছে আবেদন করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করে ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ না করা হোক।
জয় তার কথায় শান্তি, ভালোবাসা ও মানবিকতার মূল্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমরা আলাদা পথে চললেও শান্তি ও মানবিকতা আমাদের পথপ্রদর্শক থাকবে।” এভাবে তিনি ভবিষ্যৎকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
দাম্পত্যের এই নতুন পর্যায়ে সন্তানদের প্রতি অগ্রাধিকার বজায় রাখার কথা জয় পুনরায় উল্লেখ করেছেন। তিনি দুজনের সন্তান রাজবীর ও খুশি, এবং কন্যা তারা—তিনজনের জন্য সর্বোত্তম পিতামাতা হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
বিচ্ছেদের পেছনে কোনো তর্ক বা কষ্টের বিষয় নেই, এ কথাও জয় জোর দিয়ে বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমরা আলাদা পথে হাঁটলেও এই গল্পে কোনো খারাপ চরিত্র নেই, কোনো নেতিবাচক দিকও নেই।” এভাবে তিনি দুজনের মধ্যে কোনো বিরোধের ইঙ্গিত না দিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি তুলে ধরেছেন।
দম্পতি একে অপরকে সম্মান করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জয় বলছেন, “আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হয়েছে, এবং আমরা একে অপরকে সমর্থন করব।” এই বিবৃতি দুজনের পারস্পরিক সম্মান ও সমঝোতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
জয় ও মাহির প্রথম সাক্ষাৎ একটি বন্ধুর পার্টিতে হয়েছিল, যেখানে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বন্ধুত্ব রোমান্সে পরিণত হয়ে ২০১১ সালে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
দম্পতি ২০১৭ সালে গৃহকর্মীর দুই সন্তান রাজবীর ও খুশিকে দত্তক নেয়, এবং ২০১৯ সালে তৃতীয় সন্তান তারা জন্মায়। এভাবে তিনজন সন্তান তাদের পারিবারিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
বিচ্ছেদের আগে সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা, পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এবং মানসিক দূরত্বের কথা গুজবের আকারে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সূত্রের মতে, এই বিষয়গুলো ধীরে ধীরে সম্পর্কের ফাটল বাড়িয়ে দেয়। যদিও মাহি বিজ সেই সময়ে গুজবকে অস্বীকার করে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত দুজনের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়েছে।
কাজের দিক থেকে মাহি বিজ সম্প্রতি ‘সেহর হোনে কো হ্যায়’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে ফিরে এসেছেন। এই সিরিয়ালটি বর্তমানে কালার্স টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে এবং তার ক্যারিয়ারকে নতুন দিক দিয়েছে।



