সপ্তাহের শেষের শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ চালায়, যার ফলে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদুরো ও তার স্ত্রী নিউ ইয়র্কে বিচারাধীন অবস্থায় আটকে রয়েছে, আর এই ঘটনার তাত্ক্ষণিক আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলা আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানায় এবং মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে। বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের এই কাজকে লাতিন আমেরিকায় শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সাহসী পদক্ষেপ চীনের জন্য একটি অপ্রত্যাশিত সুযোগ তৈরি করেছে, যা বেইজিংকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। তবে তারা জোর দিয়ে উল্লেখ করছেন যে, এই ঘটনা তাইওয়ান আক্রমণের সময়সূচি ত্বরান্বিত করবে না।
চীনের জাতীয় নেতা শি জিনপিংয়ের তাইওয়ান সংক্রান্ত বিবেচনা ও সময়সূচি লাতিন আমেরিকায় ঘটমান ঘটনার থেকে স্বতন্ত্র। বিশ্লেষকরা বলেন, শি’র নীতি মূলত চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্বারা নির্ধারিত, যুক্তরাষ্ট্রের বাহ্যিক পদক্ষেপের দ্বারা নয়।
ট্রাম্পের আক্রমণ বেইজিংকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা বাড়ানোর এবং তার নিজস্ব ভূখণ্ডীয় দাবিগুলোকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় তুলে ধরার একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছে। বিশেষ করে তাইওয়ান, তিব্বত এবং পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত চীনের অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, “ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের যুক্তি ছিল চীনের কার্যকলাপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, কিন্তু এখন চীন এই যুক্তিকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন আক্রমণাত্মক কৌশল গড়ে তুলছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি চীনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে সস্তা গুলির মতো কাজ করবে।”
চীন সরকার তাইওয়ানকে নিজস্ব প্রদেশ হিসেবে দাবি করে, যদিও তাইওয়ানের সরকার এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং স্বাধীনতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে চীন দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ অংশের ওপর স্বাধিকার দাবি করে, যা ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনাইসহ বেশ কয়েকটি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশের সঙ্গে বিরোধের মূল কারণ।
বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তাইওয়ান বিষয়ক অফিস এবং তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টিয়াল অফিসের প্রতিনিধিরা এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এই নীরবতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে যে, উভয় পক্ষের কূটনৈতিক সংলাপ কতটা সক্রিয়।
মাদুরো গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ক্যারাকাসে চীনের উচ্চপর্যায়ের একটি দলে সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফটোগ্রাফিক প্রমাণ দেখায়, মাদুরো চীনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণের সময় বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যদিও সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণ চীনের ভূখণ্ডীয় দাবি ও কূটনৈতিক কৌশলে নতুন গতিবিধি আনতে পারে, তবে তা তৎক্ষণাৎ তাইওয়ান আক্রমণের দিকে নিয়ে যাবে না। ভবিষ্যতে বেইজিং কীভাবে এই সুযোগকে ব্যবহার করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা পরবর্তী কূটনৈতিক মাইলস্টোনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



